খবর অনলাইন ডেস্ক: কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মঙ্গলবার আয়োজিত ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL) ২০২৫-২৬ মরসুমের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এবং ইন্টার কাশী গোলশূন্য ড্র করে পয়েন্ট ভাগ করে নিল। ম্যাচ জুড়ে বলের দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করেও গোলের দেখা পেল না মোহনবাগান। অন্য দিকে, সুসংগঠিত রক্ষণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবলের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয় ইন্টার কাশী।

এই ড্রয়ের ফলে ১১ ম্যাচে মোহনবাগানের সংগ্রহ দাঁড়াল ২২ পয়েন্ট। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল পার্থক্যে তারা পিছিয়ে রয়েছে লিগ শীর্ষে থাকা ইস্টবেঙ্গল এফসি-র থেকে। অন্য দিকে ইন্টার কাশী ১২ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে লিগের ১০ নম্বরে।

প্রথমার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল সবুজ-মেরুনের

ম্যাচের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হন মোহনবাগানের দীপক টাংরি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সবুজ-মেরুন শিবির। মাঝমাঠে সাহাল আবদুল সামাদের নৈপুণ্যে একাধিক আক্রমণ গড়ে ওঠে। ম্যাচের প্রথম দিকেই সাহাল দু’টি সুযোগ তৈরি করলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।

তবে ইন্টার কাশীও পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। নবম মিনিটে আলফ্রেড প্লানাস, নাউরিস পেতকেভিসিয়ুস ও সার্জিও লামাসের দুর্দান্ত পাসিং মুভ থেকে মহম্মদ আসিফ গোলের সুযোগ পেলেও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।

ক্রমশ বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় মোহনবাগান। সাহালের পাশাপাশি রবিনহোও কয়েকটি আক্রমণ তৈরি করেন। কিন্তু ইন্টার কাশীর রক্ষণভাগে নরেন্দর গাহলট ও ডেভিড হিউমানেস অত্যন্ত দৃঢ়তা দেখান। ফলে দিমিত্রিয়োস পেত্রাতোস ও জেসন কামিন্স আক্রমণে খুব একটা কার্যকর হতে পারেননি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে প্লানাস একটি সুযোগ পেলেও তাঁর শট ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়। গোলশূন্য অবস্থাতেই প্রথমার্ধ শেষ হয়।

ম্যাচের সেরা দীপক টাংরি। ছবি Mohun Bagan Super Giant ‘X’ থেকে নেওয়া।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলোয়াড় পাল্টালেও লাভ হল না মোহনবাগানের

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মোহনবাগান কোচ সার্জিও লোবেরা আক্রমণে গতি আনতে মাঠে নামান লিস্টন কোলাসো এবং জেমি ম্যাকলারেনকে। এর পর আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় মোহনবাগান। পেত্রাতোসের শট বাঁচান ইন্টার কাশীর গোলরক্ষক শুভম ধাস। দূরপাল্লার শটে চেষ্টা করেন লিস্টন ও টম অ্যালড্রেডও, তবে স্কোরলাইন বদলায়নি।

৬৬ মিনিটে মনবীর সিংয়ের কাট-ব্যাক থেকে বক্সের ভিতরে সুযোগ পান সাহাল। কিন্তু ইন্টার কাশীর ডিফেন্ডাররা দ্রুত ব্লক করে বিপদমুক্ত করেন। ম্যাচ যত এগোয়, ততই আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে ইন্টার কাশী। পাল্টা আক্রমণে জয়েশ রানে একটি ভালো সুযোগ পেলেও বল বারের উপর দিয়ে মেরে বসেন।

ম্যাচের ৮৫ মিনিটে মোহনবাগান সবচেয়ে বড় সুযোগটি পায়। জেমি ম্যাকলারেনের শট অসাধারণ দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান শুভম ধাস। এর পর কর্নার থেকে টম অ্যালড্রেডের হেডও অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়।

ইনজুরি টাইমে ইন্টার কাশী প্রায় ম্যাচ জেতার মতো সুযোগ তৈরি করে ফেলেছিল। রোহিত দানু একক দৌড়ে এগিয়ে গেলেও মোহনবাগান গোলরক্ষক বিশাল কাইথ দ্রুত বেরিয়ে এসে নিশ্চিত গোল রুখে দেন।

শেষ পর্যন্ত ৭০ শতাংশের বেশি বলের দখল রেখেও গোল করতে ব্যর্থ হয় মোহনবাগান। অন্য দিকে, সুসংগঠিত রক্ষণ এবং লড়াকু মানসিকতার জোরে মূল্যবান এক পয়েন্ট অর্জন করে ইন্টার কাশী।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *