খবর অনলাইন সংবাদদাতা: রবিবার আইএসএলের কলকাতা ডার্বি। মুখোমুখি হচ্ছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এবং ইস্টবেঙ্গল এফসি। এ বারের ডার্বি অনুষ্ঠিত হচ্ছে অন্য রকম আবহে। এত দিন লিগের পয়েন্ট তালিকা বা দলগত শক্তির বিচারে এগিয়ে থেকেই ডার্বিতে নামত মোহনবাগান। কিন্তু রবিবারের ম্যাচে পরিস্থিতি উল্টো। প্রথম বার আইএসএলের কলকাতা ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের পিছনে থেকে মাঠে নামতে চলেছে সবুজ-মেরুন শিবির।
আইএসএল-এ লিগ টেবিলে ইস্টবেঙ্গল রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে এবং মোহনবাগান রয়েছে তৃতীয় স্থানে। দুটি দলই ১১টি ম্যাচ থেকে ২২ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। কিন্তু গোলপার্থক্যে সবুজ-মেরুন রয়েছে পিছিয়ে। তার উপর দলের স্ট্রাইকারদের ধারাবাহিক গোলখরা মোহনবাগানের কোচ সের্জিয়ো লোবেরার চিন্তা আরও বাড়িয়েছে। তবে এই ম্যাচ জিতলেই ট্রফির দৌড়ে বড় সুবিধা মিলতে পারে বলেই ডার্বিকে ‘ফাইনাল’ হিসাবেই দেখছেন তিনি।

সাংবাদিক সম্মেলনে মোহনবাগান কোচ সের্জিয়ো লোবেরা এবং খেলোয়াড় আলবার্তো।
জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী লোবেরা
ম্যাচের আগের দিন শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে লোবেরা বলেন, এই ধরনের বড়ো ম্যাচ খেলতেই ফুটবলার ও কোচরা বাঁচেন। তাঁর কথায়, দলের অভিজ্ঞ ফুটবলাররা চাপ সামলাতে জানেন এবং ডার্বির আবহ স্বাভাবিক ভাবেই বাড়তি অনুপ্রেরণা দেয়। তিনি আত্মবিশ্বাসী, কারণ তাঁর মতে এই জয় মোহনবাগানকে ট্রফির আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে।
সাম্প্রতিক ম্যাচগুলিতে মোহনবাগানের আক্রমণভাগ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও গোলের মুখ খুলতে পারছেন না স্ট্রাইকাররা। তবে এই বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে নারাজ লোবেরা। তাঁর মতে, সমস্যা তখনই হত, যদি দল সুযোগই তৈরি করতে না পারত। তিনি মনে করেন, দলে থাকা ফুটবলারদের গোল করার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার জায়গা নেই। শুধু ফিনিশিংয়ে আরও নিখুঁত হওয়া দরকার।
প্রতিপক্ষ ইস্টবেঙ্গলকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন মোহনবাগান কোচ। তাঁর মতে, আইএসএলের ইতিহাসে এটাই ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম শক্তিশালী দল। শুধু তা-ই নয়, ট্রফির লড়াইয়ে থাকা অন্য দলগুলির তুলনায়ও লাল-হলুদের স্কোয়াড যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ বলেই দাবি লোবেরার। তবে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করে টানা তৃতীয় বার ট্রফি জয়ের ইতিহাস গড়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।


সাংবাদিক সম্মেলনে ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজোঁ ও খেলোয়াড় রশিদ।
এখন একমাত্র লক্ষ্য ডার্বি জয়, বললেন ব্রুজোঁ
অন্য দিকে, মরসুম শেষে ইস্টবেঙ্গল ছাড়ছেন কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। ফলে রবিবারের ডার্বি তাঁর কাছে আবেগেরও। কিন্তু ম্যাচের আগে কোনো বিতর্কে জড়াতে চাননি তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত দল, তিনি নন।
অস্কার বলেন, ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুধুমাত্র পেশাদারিত্বের নয়, আবেগেরও। নিজেকে তিনি লাল-হলুদ সমর্থক হিসাবেই দেখেন। গত কয়েক বছরে ক্লাবের কঠিন সময়, সমর্থকদের হতাশা— সবটাই তাঁর জানা। সেই কারণেই শেষ ডার্বির আগে নেতিবাচকতা দূরে সরিয়ে রেখে শুধু দলকে নিয়েই ভাবতে চান তিনি।
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি ইস্টবেঙ্গল কোচ। তাঁর দাবি, ক্লাব, বিনিয়োগকারী সংস্থা এবং তাঁর ব্যক্তিগত ভাবনার মধ্যে পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে সেটি আলোচনার বিষয় নয়। এখন একমাত্র লক্ষ্য ডার্বি জয়।
প্রথম ছয়ে থেকে লক্ষ্যপূরণ ইতিমধ্যেই হয়েছে বলে মনে করছেন অস্কার। তবে সেখানেই থামতে রাজি নন তিনি। তাঁর চোখ এখন আইএসএল ট্রফি এবং এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের যোগ্যতা অর্জনের দিকে। অস্কারের বিশ্বাস, বড়ো স্বপ্ন থাকলে কঠিন চ্যালেঞ্জও জয় করা সম্ভব।
ছবি: সঞ্জয় হাজরা
