সন্তানপালন নেহাত ছেলেখেলা নয়। কতদিক মাথায় রেখে যে মা-বাবা সন্তানকে বড় করেন, তা গুণে শেষ করা যায় না। বিশেষত একাধিক সন্তান থাকলে তাদের মধ্যেকার সম্পর্কও মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়ায় এক এক সময়। অনেক সময়েই বড় সন্তানটি ছোটটির প্রতি হিংসাত্মক আচরণ করে। কখনও আবার ছোটজন মনে করে বাবা-মায়ের আদরের সবটুকু অধিকারী সে একাই। সন্তানদের মধ্যে কীভাবে সুসম্পর্ক তৈরি করা যায়, তা নিয়ে চিন্তার অন্ত থাকে না অভিভাবকের।

Want Your Kids to Grow Up Close? Try These Simple Parenting Habits

আরও পড়ুন:

মনোবিদরা বলছেন, সন্তানকে অহেতুক বকাবকির বদলে অভিভাবকদেরকেই নিজেদের রোজের অভ্যাসে ঢুকিয়ে নিতে হবে এমন কিছু আচরণ, যা পরিস্থিতিতে সামগ্রিকভাবে বদলাতে সাহায্য করবে (Simple Parenting Habits)।

• এক সন্তানকে অন্য সন্তানের সঙ্গে তুলনা করবেন না। প্রতিটি শিশুর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বড় দাদা বা দিদির মতো হতেই হবে তাকে, এই ধারণা ঢুকিয়ে দেওয়ার বদলে, তার নিজের কথা বলেই তাকে ভালো কোনও কাজে উৎসাহিত করুন। একইভাবে বড়জনকেও ছোটটির সঙ্গে তুলনা করবেন না। এতে জেদ অথবা হীনমন্যতা— এই দুইয়ের কোনওটি জাঁকিয়ে বসবে শিশুমনে।

• সারাদিনে যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, প্রত্যেক সন্তানকে আলাদা করে সময় দিন। এতে তারা বুঝবে, বাবা-মায়ের কাছে তাদের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। ব্যক্তিগত কিছু ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছে হলে, সেই সুযোগও পাবে সে।

• ভাই-বোনের ঝগড়ায় সঙ্গে সঙ্গে কোনও এক পক্ষ বেছে নেবেন না। কে ঠিক, কে ভুল—সেটা বোঝার জন্য দু’জনের কথাই শুনুন। নিজেদের সমস্যা নিজেরাই মেটাতে শেখান তাদের। তবে গুরুতর সমস্যা হলেও যে পক্ষ নেবেন না, এমনটা নয়।

• একজনের সামনে অন্যজনকে অপমান করবেন না। ভুল করলে বকা বা শাসন করার দরকার হতে পারে, কিন্তু একজনের সামনে কারণে অকারণে অন্যকে ছোট করলে তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে।

• একে অপরকে সাহায্য করতে উৎসাহ দিন। ছোটখাটো কাজে ভাই-বোনকে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে শেখান। এতে সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি হয়।

Want Your Kids to Grow Up Close? Try These Simple Parenting Habits

• খেলাধুলা, গল্প বলা, রান্নায় সাহায্য করা, সিনেমা দেখা বা সপরিবারে বেড়াতে যাওয়া— চেষ্টা করুন সন্তানদের একসঙ্গে এমন সব অভিজ্ঞতায় শামিল করতে, যাতে ছোটবেলার কথা ভাবলে একরাশ সুন্দর স্মৃতি মনে পড়ে তাদের। এমন সব অভিজ্ঞতা, যেখানে ভাই/বোনটিও সঙ্গে রয়েছে তাদের।

ভাই-বোনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক জোর করে তৈরি করা যায় না। বাবা-মা যদি বাড়িতে ভালোবাসার অভ্যাস করান, সমান গুরুত্ব দেন প্রত্যেক সন্তানকে, তবে সন্তানদের মধ্যে সম্পর্ক এমনিতেই দৃঢ় হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *