Arup Biswas: তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধের চিঠি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কালীঘাট থেকে পাঠানো ওই চিঠির উত্তরে কী বলেছেন অরূপ বিশ্বাস?
কেন তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ করতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছিলেন? কালীঘাট থেকে শোকজ করা হয়েছিল দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসকে। তিন পাতার নোটিস পাঠান হয়েছিল। এবার সেই চিঠির পাল্টা জবাব দিলেন অরূপ বিশ্বাস। এতোদিনে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। অরূপ বিশ্বাস দলের তহবিলে নানা ধরনের তছরুপের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি আরও জানইয়েছেন, তাঁর সই করা চেক কোথায় কী ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে তা তিনি জানতে পারেননি।

ব্য়াঙ্কে চিঠি অরূপের
ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে চিঠি দিয়েছিলেন অরূপ। তৃণমূলের অন্দরে বিভাজনের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। আর সেই কারণেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় লেনদেন আপাতত স্থগিত করার আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর আগেই কোষাধক্ষ্য পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেও কেন অরূপ বিশ্বাস ব্যাঙ্কে চিঠি দিয়ে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার কথা বলেছিলেন তাও জানতে চেয়েছেন মমতারা। সূত্রের খবর, রবিবারই শোকজ নোটিশের জবাব দিয়েছিলেন অরূপ।
অরূপের জবাব
তৃণমূল সূত্রের খবর, চিঠিতে অরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তিনি যে চেকগুলিতে আগাম সই করেছিলেন, সেগুলি কোথায় ব্যাবহার করা হয়েছে, সেই বিষয়ে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি। দলের প্রয়োজনে তিনি আগে থেকে সব চেকে সই করে রাখতেন, তা কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, কে সেগুলি ব্যবহার করে টাকা তুলেছেন, কত টাকা তোলা হয়েছে, সেই বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও তথ্য নেই। আর সেই কারণেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়েছে চিঠি দিয়েছিলেন।
তৃণমূলে জলঘোলা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অরূপ বিশ্বাসকে সরিয়ে তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ করেছিলেন শুভাশিষ চক্রবর্তীকে। ব্যাঙ্কে অরূপের চিঠি নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও তৃণমূলের তহবিল থেকে লেনদেন বন্ধ করার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছিল। তাঁদের তরফে থানায় চিঠি দেওয়া হয়। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় যে ব্যাঙ্কের শাখায় তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেখানকার থানায় চিঠি দিয়ে জানানো হয়, কোন ব্যাঙ্কে কী অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস তিনটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে গেছে।
