নন্দীগ্রাম: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন। ঠিক তার আগে নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে পায়ে চোট পেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পায়ে ফ্র্যাকচার হয়েছিল তাঁর। সেইসময় পায়ে প্লাস্টার নিয়েই হুইলচেয়ারে প্রচার সেরেছিলেন মমতা। প্রচারের মঞ্চ থেকে স্লোগান তুলেছিলেন, ‘ভাঙা পায়ে খেলা হবে’। ঘটনার পাঁচ বছর পর নন্দীগ্রাম থেকে সেই প্রসঙ্গ তুলে বিস্ফোরক দাবি করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট দাবি, সেদিন বিরুলিয়ার ঘটনায় মমতার পায়ে আদৌ কোনও ফ্র্যাকচারই হয়নি। সামান্য চোট লেগেছিল মাত্র। কিন্তু, পা ভাঙার নাম করে পায়ে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ঘুরেছেন মমতা। এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কাছে প্রমাণও রয়েছে বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু। প্রয়োজনে চ্যালেঞ্জ করলে প্রমাণও দেখিয়ে দেবেন বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু।
চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনে দুই কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর। দুই কেন্দ্রেই জয়লাভ করেন। কিন্তু, শেষপর্যন্ত নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। তাঁর ছেড়ে যাওয়া নন্দীগ্রামের আসনে ফের উপনির্বাচন ৬ অক্টোবর। আজ, শুক্রবার বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের প্রচারে নন্দীগ্রামে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেখান থেকেই তিনি ব্যাখ্যা করলেন, ভবানীপুরের আসন কেন ছাড়েননি। শুভেন্দুর কথায়, “চিন্তার কোনও কারণ নেই। আপনাদের শুভেন্দু গতকাল যা ছিল, আজও তাই আছে, আগামিকালও তাই থাকবে। আমি ভবানীপুরটা ছেড়ে দিলে যাঁকে মানুষ বিতাড়িত করেছে, আবার দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেত।”
এরপরই ২০২১-এ মমতার পায়ে চোট লাগার প্রসঙ্গ টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ” নন্দীগ্রামেই হেরে ঘর চলে গিয়েছিল। ভালো পায়ে ব্যান্ডেজ লাগিয়েছিল। আমি ব্যক্তিগত আক্রমণ পছন্দ করি না। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পিজি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। আমি ওখানকার সভাপতি, ভবানীপুরের মধ্যে পড়ে। এক্স-রে প্লেট তো রোগী পেয়ে যায়। ডাক্তারের কাছে থাকে না। রিপোর্টটা থাকে। সেদিন আপনাদের বদনাম করে দিয়েছিল না? লোহার বিমে গাড়ির দরজা লেগেছিল। দরজাটা ফিরে এসে তাঁর একটু পায়ে লেগেছিল। আর পা ভেঙেছে বলে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ঘুরেছিল। আমার কাছে ওই কাগজটা রয়েছে। তখন উনি মুখ্যমন্ত্রী। ওঁর ডাক্তাররা লিখে দিয়েছে নো ফ্র্যাকচার। যেদিন দরকার হবে চ্যালেঞ্চ করলে দেখিয়ে দেব। আমি এখন পুলিশমন্ত্রীও বটে। সেদিন দেখিয়ে দেব, গোটা বিরুলিয়া ও নন্দীগ্রামকে কীভাবে অপমান করেছিল।”
