দুবাই থেকে তেল আভিভ-গামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি ধ্বংস করার ছক কষেছিলেন বলে অভিযোগ খোদ কো-পাইলটের বিরুদ্ধে। মাঝ-আকাশে তাঁর সেই চেষ্টা রুখে দিয়ে ইজ়রায়েলের কাছে এখন ‘হিরো’ ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। সেই ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের দ্রুত আরোগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় শ্রী সোমনাথ মহাদেব মন্দিরে আয়োজিত হল বিশেষ মহাপূজা। একই সঙ্গে তাঁর পূর্ণ সুস্থতার প্রার্থনা জানিয়ে সেখানে অবিরাম ‘মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রজপ অনুষ্ঠান’ শুরু হয়েছে।

সোমনাথ মন্দির ট্রাস্ট ও স্থানীয় ভক্তদের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উঠে এসেছে স্মিত মচ্ছরের অসামান্য সাহসিকতার কথা। জানা যায়, তেল-আভিভ অভিমুখে উড়ন্ত বিমানে এক অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং ৯/১১-এর মতো ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্র রচিত হয়েছিল। ফ্লাইট পরিচালনার সময় চরম বিপদের মুখে দাঁড়িয়েও স্মিত নিজের অদম্য সাহস, অসাধারণ বিচক্ষণতা ও অনন্য কর্তব্যনিষ্ঠার পরিচয় দেন।

নিজের জীবন বাজি রেখে এবং ঠান্ডা মাথায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেন এবং বিমানে থাকা ১৮০ জন অমূল্য প্রাণকে অলৌকিকভাবে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন।

এই বীরত্বপূর্ণ কাজের পর স্মিত মচ্ছর বর্তমানে চিকিৎসাধীন। জ্যোতির্লিঙ্গ শ্রী সোমনাথ ধামে আয়োজিত এই মহাপূজা ও মহামৃত্যুঞ্জয় জপের মাধ্যমে মহাদেবের কাছে প্রার্থনা জানানো হচ্ছে, যেন শিবশম্ভুর কৃপায় দেশের এই বীর সন্তান দ্রুত এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং দীর্ঘায়ু লাভ করেন। ভারতবাসীর হৃদয় থেকে এখন একটাই প্রার্থনা—’জয় হিন্দ’ এবং দেশের বীর সন্তান স্মিত মচ্ছরের দ্রুত আরোগ্য।

ইসরায়েলের দিকে উড়ে যাওয়া বিমানে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে ১৮০ জন যাত্রীর জীবন রক্ষা করা ভারতীয় বিমানচালক স্মিত মচ্ছরের অসামান্য অদম্য সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল থেকে শুরু করে দেশবাসী।

এই বীরত্বপূর্ণ কৃতিত্বের জন্য ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্মিত মচ্ছরকে ‘হিরো’ বা প্রকৃত বীর হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও স্মিত যেভাবে চরম বিচক্ষণতা ও সাহসের সঙ্গে পাল্টা মোকাবিলা করেছেন, তা আমেরিকার ৯/১১-এর মতো আরও একটি ভয়াবহ নজিরবিহীন বিপর্যয়কে ভেস্তে দিয়েছে।

একইভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স-এ লেখেন, “ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর আমাদের প্রকৃত হিরো। চরম সংকটের মুহূর্ত এবং নিজে গুরুতর জখম থাকা সত্ত্বেও অন্যদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য তিনি যে অসীম সাহস ও অবিচল সংকল্প প্রদর্শন করেছেন, তা সত্যি অবিশ্বাস্য।” দেশের এই বীর সন্তানের সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “ক্যাপ্টেন মচ্ছরের মতো সন্তানকে নিয়ে সমগ্র ভারত আজ গর্বিত।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *