১৫ বছরের মেয়াদ শেষ হলেই যে Public Provident Fund বা PPF অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে পুরো টাকা তুলে নিতে হবে, এমনটা নয়। ম্যাচিওরিটির পরও এই নিরাপদ সঞ্চয় প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার একাধিক সুযোগ রয়েছে। ফলে প্রয়োজন না থাকলে টাকা তুলে না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সুদের সুবিধা নেওয়া যেতে পারে।

বর্তমানে PPF-এ বার্ষিক সুদের হার ৭.১ শতাংশ। তবে এই হার সরকার সময় সময় সংশোধন করতে পারে। ম্যাচিওরিটির পর মূলত তিনটি পথ বেছে নিতে পারেন বিনিয়োগকারীরা।

– বিজ্ঞাপন –

১. পুরো টাকা তুলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ

ম্যাচিওরিটির পর প্রয়োজন হলে সম্পূর্ণ টাকা তুলে PPF অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা যায়। ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে প্রয়োজনীয় ফর্ম জমা দিয়ে মূলধন ও সুদের পুরো অর্থ পাওয়া যায়। PPF-এর ‘EEE’ কর কাঠামোর আওতায় ম্যাচিওরিটির টাকা সাধারণত করমুক্ত।

যাঁদের সন্তানের পড়াশোনা, বাড়ি তৈরি, বিয়ে বা অন্য কোনও বড় আর্থিক প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের জন্য এই বিকল্পটি কার্যকর হতে পারে।

২. নতুন টাকা না দিয়ে অ্যাকাউন্ট চালু রাখা

ম্যাচিওরিটির পর নতুন করে টাকা জমা না দিয়েও অ্যাকাউন্ট চালু রাখা যায়। সেক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টে থাকা টাকার উপর নিয়ম অনুযায়ী সুদ জমতে থাকে। এই পদ্ধতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী বছরে এক বার টাকা তোলার সুযোগ থাকে।

অর্থাৎ, নতুন করে বিনিয়োগ না করেও পুরনো সঞ্চয়কে বাড়তে দেওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

৩. আরও ৫ বছরের জন্য অ্যাকাউন্ট বাড়ানো

যাঁরা দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয় চালিয়ে যেতে চান, তাঁরা PPF অ্যাকাউন্ট ৫ বছরের ব্লকে বাড়াতে পারেন। তবে নতুন করে টাকা জমা রেখে অ্যাকাউন্ট বাড়াতে চাইলে ম্যাচিওরিটির এক বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ফর্ম জমা দিতে হবে।

এই ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জমা করা যায়। নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর সুবিধাও পাওয়া যেতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি কী?

‘কন্ট্রিবিউশন-সহ’ এবং ‘কন্ট্রিবিউশন ছাড়া’ অ্যাকাউন্ট বাড়ানোর মধ্যে পার্থক্যটি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। এক বছরের মধ্যে কন্ট্রিবিউশন-সহ মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত না নিলে পরবর্তী সময়ে সেই একই এক্সটেনশন পর্বে নতুন করে টাকা জমা দেওয়ার সুযোগ নাও থাকতে পারে।

তাই ম্যাচিওরিটির পর টাকা তোলার আগে নিজের আর্থিক প্রয়োজন, EPF, NPS, মিউচুয়াল ফান্ড-সহ অন্যান্য বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্য বিবেচনা করা জরুরি। তাৎক্ষণিক টাকার প্রয়োজন না থাকলে PPF-এর মেয়াদ বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ সঞ্চয় চালিয়ে যাওয়া অনেকের জন্য কার্যকর বিকল্প হতে পারে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *