পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) প্রশাসনের দমন-পীড়ন এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের খবর করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। এর জেরে মুখ পুড়েছে শাহবাজ শরিফ সরকারের। এবার বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করতে বিদেশি গণমাধ্যমের উপর খড়্গহস্ত হল ইসলামাবাদ। এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সরকারি অনুমতি ছাড়া পাকিস্তানের বিশেষ বিশেষ অঞ্চলে খবর করতে পারবে না বিদেশ সংবাদমাধ্যম। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা এই নির্দেশিকা লাগু হবে ওয়েব-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ও সোশাল মিডিয়া-সহ সকল আন্তর্জাতিক প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল গণমাধ্যমের উপরে।
অধিকৃত কাশ্মীরে খাদ্যপণ্য, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি-সহ একধিক বিষয়ে প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ আন্দোলন চালাচ্ছে স্থানীয় মানুষ। তাদের ওপর পাক সরকারের ধারাবাহিক দমন-পীড়নে জুন মাস থেকে এখনও পর্যন্ত ৯০ জন নিহত হয়েছেন। এভাবে বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক স্তরে সমালোচনার মুখে পড়েছে পাকিস্তান। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কলমকে শিকবন্দি করতে উদ্যোগী হয়েছে শাহবাজ সরকার। নয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এবার থেকে বিদেশি গণমাধ্যম সংস্থা এবং তাদে কর্মীদের নিবন্ধন করবে প্রশাসন। সরকার অনুমোদন দেওয়ার পরেই ওই সংস্থা বা গণমাধ্যমকর্মী খবর করতে পারবেন। এছাড়াও সংবাদকর্মী কোথায় কোথায় যাচ্ছেন, কার কার সঙ্গে কথা বলেছেন, সম্পূর্ণ গতিবিধির উপর নজর রাখবে পাক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন:
ইতিমধ্যে নথিবদ্ধ আন্তর্জাতিক সাংবাদিকরাও পাক সরকারের অনুমোদনপত্র ছাড়া খবর করতে পারবেন না। এই নির্দেশিকা লাগু হবে সংবাদ, তথ্যচিত্র, সিনেমা, ভিডিও এবং সোশাল মিডিয়া কনটেন্টের ক্ষেত্রেও। নির্দেশিকা অনুযায়ী ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচির মতো বড় শহরের ক্ষেত্রে এনওসি গ্রহণের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে অ্যাবোটাবাদ ও মুরিতে যেতে হলে সাংবাদিকরা আবেদনের ভিত্তিতে ইপি উইং থেকে এনওসি সংগ্রহ করতে পারবেন। সাধারণত তিন কর্মদিবসের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া যাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) সরকারবিরোধী আন্দোলন ও প্রশাসনের দমন-পীড়ন নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের ‘দোষে’ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে (Al Jazeera) নিষিদ্ধ করেছে শাহবাজ শরিফ সরকার। বিশ্ববিখ্যাত সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’র অভিযোগ এনেছে তারা।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আল জাজিরার ‘বিভ্রান্তিকর’ এবং ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, সংবাদমাধ্যমটি বেছে বেছে কিছু তথ্য ও নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির বক্তব্য প্রচার করে ‘আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর’ (এজেকে) অঞ্চলের নির্বাচন ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। যদিও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, পিওকে-র সত্যিটা প্রকাশ্যে এসে যাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে শাহবাজ শরিফ সরকার। সেই কারণেই মিডিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
