মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা, এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গত বৃহস্পতিবারই বেঙ্গালুরুতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। ‘এসআইআর বাতিল হোক’ থেকে ‘জ্ঞানেশ কুমার গদি ছাড়ুন’- এহেন স্লোগানে সরগরম হয়ে উঠেছিল ফ্রিডম পার্ক। ‘লোকতন্ত্রে’র হয়ে সুর চড়াতে সুদূর জার্মানি থেকে উড়ে এসে আরশোলাদের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। সিজেপির এই ‘পিপলস ট্রাইব্যুনাল’ নিয়েই এবার ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বলিউডের স্বনামধন্য গীতিকার মনোজ মুনতাশির।
“অভিজিৎ দীপকে আসলে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের সঙ্গে যুক্ত। নির্বাচনে বিধ্বংসী পরাজয়ের পর আম আদমি পার্টি ক্ষমতায় ফেরার জন্য দেশের তরুণশক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে।”
আরও পড়ুন:
ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বর্তমানে তোলপাড় গোটা দেশ। সিজেপির লাগাতার বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দিল্লিতে কার্যত রণক্ষেত্র পরিস্থিতি! এমন আবহেই ককরোচ প্রধান অভিজিৎ দীপকে এবং ধ্রব রাঠিকে জোড়াবাণে বিদ্ধ করলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকার। তাঁর কথায়, “এঁরা দেশটাকে পাকিস্তান, বাংলাদেশের মতো বানাতে চাইছে।” এখানেই অবশ্য থামেননি তিনি। প্রায় ৮ মিনিট ৪২ সেকেন্ডের এক ভিডিও বার্তায় দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন তিনি। মনোজের বক্তব্য, প্রকৃত তথ্য না জেনেই ‘ভোট চুরি’র অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদে শামিল হচ্ছেন অনেকে। আর যাঁরা তাঁদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য কী এবং এই আন্দোলনের নেপথ্যে কারা রয়েছেন? সেটা তরুণদের বোঝা উচিত বলেও জানান তিনি।

“ভারতের সাফল্য এবং গর্বের মুহূর্তগুলিকে তো ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে দেখি না রাঠিকে! মঙ্গলযান থেকে শুরু করে সামরিক সাফল্য— যে সব ঘটনায়…”
‘ককরোচ’ প্রধানকে খোঁচা দিয়ে মনোজ মুনতাশিরের মন্তব্য, “অভিজিৎ দীপকে আসলে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের সঙ্গে যুক্ত। নির্বাচনে বিধ্বংসী পরাজয়ের পর আম আদমি পার্টি ক্ষমতায় ফেরার জন্য দেশের তরুণশক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে।” শুধু তাই নয়, পাঞ্জাব ও হিমাচল প্রদেশের কথা উল্লেখ করে মনোজ প্রশ্ন তুলেছেন, “কংগ্রেস বা আমআদমি পার্টি শাসিত রাজ্যগুলিতে আন্দোলনকারীরা কেন আওয়াজ তুলছেন না?” স্বঘোষিত গেরুয়া শিবির বিরোধী ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও খোঁচা দিতে পিছপা হননি তিনি। বলিউডের স্বনামধন্য গীতিকারের তোপ, “ভারতের সাফল্য এবং গর্বের মুহূর্তগুলিকে তো ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে দেখি না রাঠিকে! মঙ্গলযান থেকে শুরু করে সামরিক সাফল্য— যে সব ঘটনায় দেশের প্রশংসা করা উচিত, সেসময়ে সোশাল মিডিয়ায় ধ্রুব রাঠির তেমন উৎসাহ চোখে পড়ে না।” এই আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন মনোজ মুনতাশির। তাঁর কথায়, “অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে যে, এই বিদ্রোহের নেতৃত্বে জয়প্রকাশ নারায়ণ বা আন্না হাজারের মতো ব্যক্তিত্বরা নেই। বরং কিছু অসৎ, কূটকৌশলী এবং সুবিধেবাদী লোকজন তরুণদের ব্যবহার করছেন নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য। এরা ভারতকে নেপাল, পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। এর আগেও ‘আরশোলা’দের ‘দেশদ্রোহী’, ‘টুকরে-টুকরে গ্যাং’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন মনোজ মুনতাশির।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
