বিজ্ঞানের শিক্ষা মাতৃভাষাতেই হওয়া উচিত। বিদেশি ভাষা বলে তার চর্চা আটকে রাখা উচিত নয়। একথা বারবার মনে করাতেন বিজ্ঞানসাধক আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়। তাঁর কথায়, ‘‘ঘাটে পাটে বাটে মাঠে বিজ্ঞানকে পৌঁছে দিতে হলে মাতৃভাষার আশ্রয় নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।” পরে বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুও বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার পক্ষে জানান, ‘‘যাঁরা বলেন বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা সম্ভব নয়, তাঁরা হয় বাংলা জানেন না, নয় বিজ্ঞান বোঝেন না।”
এই দুই বিজ্ঞান সাধক বেঁচে থাকলে খুশি হতেন। কারণ, শুধু বিজ্ঞানচর্চাই নয়, এবার বাংলা ভাষায় ৪৮টি গবেষণাপত্র পেশ হবে এই কলকাতায়। প্রেসিডেন্সি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যাকাউট, জেআইএস, সরকারি-বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অধ্যাপক, গবেষকরা বাংলায় গবেষণাপত্র পড়বেন। প্রেজেন্টেশন দেবেন। শুধু তাই নয়, পারমাণবিক বিজ্ঞান, মহাকাশ বিজ্ঞানের মতো দুরূহ বিষয় নিয়ে বাংলাতেই বক্তৃতা দেবেন বিজ্ঞানীরা। আগামী শনি-রবি দু’দিন সম্মেলন হবে সল্টলেকের গুরুকুল ক্যাম্পাসে। সম্মেলনের বিষয় ‘ভারতে মৌলিক বিজ্ঞানে অগ্রগামী গবেষণা ও উন্নত প্রযুক্তির বিকাশ’। অনুষ্ঠানের যৌথ পরিচালনায় বিবেকানন্দ বিজ্ঞান মিশন এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শাখা বিজ্ঞান ভারতী। স্বাগত ভাষণে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাপস চক্রবর্তী এবং আইইএম-এর আচার্য অধ্যাপক বি চক্রবর্তী।
আরও পড়ুন:
আয়োজক কমিটির তরফে আহ্বায়ক ডঃ অপালা চক্রবর্তী জানিয়েছেন, সম্মেলনে মূলত মাতৃভাষায় বিজ্ঞান চর্চাকে আরও জনপ্রিয় করায় জোর দেওয়া হবে। পারমাণবিক বিজ্ঞান এবং ওষুধ আবিষ্কার নিয়ে বাংলায় বক্তব্য রাখবেন যথাক্রমে ড. অনুতোষ চক্রবর্তী এবং অধ্যাপক সুরজিৎ সিনহা। মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন দেবীপ্রসাদ দুয়ারি। অনুষ্ঠানে রয়েছে পোস্টার প্রেজেন্টেশন ও কেরিয়ার কাউন্সেলিং নিয়ে প্যানেল ডিসকাশনও। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলি থেকে ২৮টি মডেল জমা পড়েছে। যা নিয়ে বাংলাতেই আলোচনা হবে। অন্যতম আয়োজক অধ্যাপক তাপস চক্রবর্তী জানান, ‘‘মাতৃভাষায় বিজ্ঞানসাধানার পক্ষে আইনস্টাইনও সওয়াল করেছেন। রবিঠাকুর বিজ্ঞান নিয়ে বাংলায় ‘বিশ্ব পরিচয়’ লিখেছেন। আসলে দ্বাদশ পর্যন্ত বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করে বহু পড়ুয়া কলেজে এসে ইংরেজিতে লেকচার শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েন। বাংলায় পড়ার সুযোগ হলে তাঁদের সুবিধা হবে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
