চোখের স্বাস্থ্য (Eye Health) আজকাল প্রায় সবারই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত, সারাদিনই চোখ আটকে থাকে মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে। আর এই একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখে ব্যথা, ঝাপসা দেখা বা চোখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করেন, শুধু গাজর বা শাকসবজি খেলেই বুঝি চোখের সব সমস্যা ম্যাজিকের মতো দূর হয়ে যাবে। কিন্তু সত্যি কি তাই? চোখ ভালো রাখার বিজ্ঞানসম্মত ও সহজ কিছু উপায় জেনে নিন, যা প্রতিদিনের জীবনে খুব সহজেই কাজে লাগবে।

গাজর আর শাকসবজির আসল কাজ কী?

ভিটামিন এ চোখের জন্য খুবই জরুরি একটি উপাদান। গাজর, মিষ্টি আলু এবং পালং শাকের মতো সবুজ সবজিতে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন থাকে। শরীরে এই বিটা-ক্যারোটিন ভিটামিন এ-তে বদলে যায়, যা চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু একটা কথা মাথায় রাখা দরকার, শুধু ভালো খাবার খেলেই যে দু’দিনে চশমার পাওয়ার কমে যাবে বা রাতারাতি চোখ একদম ঠিক হয়ে যাবে, এমনটা কিন্তু নয়। চোখের সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য ভালো পুষ্টিকর খাবারের সঙ্গে সঠিক জীবনযাপনও সমানভাবে জরুরি।

অন্ধকারে স্ক্রিন ব্যবহার কি আদৌ ঠিক?

অনেকেই রাতে ঘরের আলো নিভিয়ে মোবাইল ঘাঁটতে ভালোবাসেন। কিন্তু জানেন কি, এটি চোখের জন্য কতটা ক্ষতিকর? অন্ধকার ঘরে উজ্জ্বল স্ক্রিনের দিকে তাকালে চোখের ওপর মারাত্মক চাপ পড়ে। তাই কখনও সম্পূর্ণ অন্ধকার ঘরে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করবেন না। ঘরের আলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ক্রিনের ব্রাইটনেস বা উজ্জ্বলতা ঠিক করে নিন। আলো ও অন্ধকারের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য থাকলে চোখের পেশি খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

২০-২০-২০ নিয়ম

দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পলক ফেলার হার অনেকটাই কমে যায়। এর ফলেই চোখ অতিরিক্ত শুকিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখকে বিশ্রাম দিতে ২০-২০-২০ নিয়মটি মেনে চলা উচিত। এর মানে হল, প্রতি ২০ মিনিট অন্তর কাজ থামিয়ে অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনও জিনিসের দিকে ২০ সেকেন্ডের জন্য তাকিয়ে থাকা। পাশাপাশি কাজের ফাঁকে সচেতনভাবে ঘন ঘন চোখের পলক ফেলার অভ্যাস করতে হবে।

চশমার পাওয়ার কি খাবার দিয়ে কমানো সম্ভব?

চোখ খুব ক্লান্ত লাগলে বা জ্বালা করলে পরিষ্কার ও ঠান্ডা ভেজা কাপড় চোখের ওপর দিয়ে কয়েক মিনিট বিশ্রাম নিতে পারেন। এতে চোখে বেশ আরাম পাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে, যাঁদের চোখের ত্রুটির কারণে চশমা বা লেন্স নিতে হয়েছে, তাঁদের চশমার পাওয়ার কেবল খাবার বা ব্যায়াম দিয়ে কমানো সম্ভব নয়। চোখে তীব্র ব্যথা বা সংক্রমণ হলে নিজে থেকে ডাক্তারির বদলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, সঠিক আলোতে কাজ এবং মাঝে মাঝে চোখকে বিশ্রাম দেওয়া, এই কয়েকটি সাধারণ অভ্যাসই চোখকে আজীবন সুস্থ রাখতে পারে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *