মৃত্যুর পরেও কি থেকে যায় মায়ার টান? শরীর মাটির সঙ্গে মিশে গেলেও আত্মা কি সত্যিই ফিরে আসে তার চেনা স্বজনদের কাছে? পরলোক বিজ্ঞান মতে, মানুষের দেহাবসান হলেও ভালোবাসার অদৃশ্য বন্ধন কখনও ছিন্ন হয় না।

বিশ্বের প্রায় প্রতিটি ধর্ম ও সংস্কৃতিতেই মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয়েছে। হিন্দুধর্মের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হোক কিংবা প্রাচীন মিশরের পিরামিডে মমির পাশে গৃহস্থালির যাবতীয় জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখা—সব কিছুর পেছনেই রয়েছে একই বিশ্বাস। চিন থেকে শুরু করে উত্তর আমেরিকা, সর্বত্রই প্রয়াত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে খাবার ও পোশাক উৎসর্গের রীতি প্রচলিত। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, পঞ্চভূতে দেহ বিলীন হলেও প্রিয়জনদের মায়া সম্পূর্ণ কাটিয়ে উঠতে পারে না মুক্ত আত্মা।

আরও পড়ুন:

প্রতীকী ছবি

শাস্ত্র মতে, মানুষ যেমন ঘুমের দেশে তলিয়ে যাওয়ার সঠিক মুহূর্তটি টের পায় না, তেমনই মৃত্যুর সময় এক বিশেষ ‘আত্মিক মূর্ছা’ বা অতল অচেতনতা সৃষ্টি হয়। এই চরম স্তব্ধতার মধ্য দিয়েই সূক্ষ্ম চেতনাটি নশ্বর শরীর ত্যাগ করে। দেহ ছাড়ার পর আত্মা এক অদ্ভুত হালকা বোধ এবং শূন্যে ভেসে থাকার অনুভূতি লাভ করে।

পরলোক শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে, দেহত্যাগের পর আত্মার কাছে স্থান বা সময়ের কোনও ভৌগোলিক সীমারেখা থাকে না। যোগশাস্ত্রে বর্ণিত ‘সূক্ষ্ম প্রাণ’ বায়ুর ওপর ভর করে আত্মা জাগতিক সমস্ত বাধা পেরিয়ে যায়। অনেকটা বেতার তরঙ্গ বা রেডিও সিগন্যালের মতো মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মাইল পথ অতিক্রম করার ক্ষমতা অর্জন করে এই চেতনা। এমনকী একই সঙ্গে একাধিক স্থানে উপস্থিত থাকার অলৌকিক ক্ষমতাও লাভ করে।

প্রতীকী ছবি

ভাষা বা স্থূল শরীর না থাকলেও, প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যায় পারলৌকিক সত্তা। এই যোগাযোগ ঘটে মূলত ভাব ও গভীর অনুভূতির মাধ্যমে। পরলোক থেকে প্রিয় মানুষের মস্তিষ্কে বিশেষ চিন্তা বা কম্পন তরঙ্গ পাঠিয়ে বার্তা দেয় আত্মা। জীবন্ত মানুষ হঠাৎই তীব্র কোনও স্মৃতি বা অলৌকিক অনুভূতির মাধ্যমে সেই বার্তা অনুভব করতে পারেন।

স্পষ্টতই, প্রয়াণ মানেই জীবনের চিরন্তন সমাপ্তি নয়। প্রয়াণ কেবলই বহিরাংশের রূপান্তর। পার্থিব মায়ার বাঁধন শক্ত হলে, ওপার থেকেও ভেসে আসে ভালোবাসার অদেখা বার্তা।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *