কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর ডেথ সার্টিফিকেট বা মৃত্যুর শংসাপত্র তৈরি করা আবশ্যক। নয়ত বিমা, ব্যাঙ্কের টাকা, পেনশন, সম্পত্তি কিংবা অন্যান্য আর্থিক ও আইনি কাজের ক্ষেত্রে চরম অসুবিধায় পড়তে হয় মৃতের পরিবারের সদস্যদের। এবার সেই ডেথ সার্টিফিকেট নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে। এবার থেকে মৃত ব্যক্তির নাম আর দেরিতে নথিভুক্ত কর যাবে না। কারণ আরও কড়া নিয়ম আসছে। নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত না করলে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত অনুমতি ও যাচাইয়ের প্রয়োজন হবে। ফলে কারও মৃত্যু হলে যত দ্রুত সম্ভব তা রেজিস্ট্রেশন করানোই নিরাপদ।
২১ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, মৃত্যুর ঘটনার ২১ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে নথিভুক্ত করতে হয়। হাসপাতাল, নার্সিংহোম বা অন্য কোনও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে মৃত্যু হলে মেডিক্যাল নথির ভিত্তিতে মৃত্যুর তথ্য রেজিস্ট্রেশন করা হয়। আর বাড়িতে মৃত্যু হলে পুরসভা কিংবা পঞ্চায়েতে গিয়ে মৃত ব্যক্তির নাম নথিভুক্ত করতে হয়। অনেক জায়গায় অনলাইনেও আবেদনের সুযোগ রয়েছে।
দেরি হলে কী হবে?
২১ দিনের মধ্যে মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত না করলে দেরির কারণ এবং প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত নথি জমা দিতে হতে পারে। তবে এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলে নিয়ম আরও কঠোর হবে।
মৃত্যুর এক বছরের বেশি, কিন্তু দু’বছরের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট জেলা শাসক (DM), মহকুমাশাসক (SDM) অথবা জেলা শাসকের অনুমোদিত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ প্রয়োজন হবে। আবেদন করার পর তথ্য ও মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে।
আর মৃত্যুর দু’বছরের বেশি সময় পরে রেজিস্ট্রেশনের আবেদন করা হলে ‘Judicial Magistrate First Class’ (JMFC)-এর নির্দেশ নিতে হবে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন পর মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করতে গেলে প্রশাসনিক অনুমোদনের পাশাপাশি বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়াও যুক্ত হবে।
কী কী নথি লাগতে পারে?
মৃত্যু নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী কিছুটা আলাদা হতে পারে। সাধারণভাবে প্রয়োজন হতে পারে—
হাসপাতাল বা চিকিৎসকের দেওয়া মৃত্যুর কারণ সংক্রান্ত শংসাপত্র
মৃত ব্যক্তির নাম, বয়স ও জন্মতারিখের তথ্য
মৃত্যুর তারিখ ও স্থান
আবেদনকারীর পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য
হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি
নির্ধারিত আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় সহায়ক নথি
