সুন্দরবন: সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামের মাটির ঘরে আলোর রোশনাই। বাংলাকে গর্বিত করে দিল্লি যাচ্ছেন বাসন্তীর সেলিমা মোল্লা। শনিবার লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চলেছে সে। টিকিট কাটার আর্থিক ক্ষমতাটুকুও ছিল না। অবশেষে বিধায়কের সাহায্যে টিকিট কাটতে পেরেছে সে।
গত জুন মাসে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মাই ভারত’ (My Bharat) দফতরের পক্ষ থেকে একটি প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে অংশ নিয়েছিলেন সুন্দরবনের মেয়ে সেলিমা। তাঁর প্রবন্ধের বিষয় ছিল ইংরেজি ভাষায় লেখা— “Role of AI in building Bikshit Bharat by 2047” (২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গঠনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ভূমিকা)। সেই প্রতিযোগিতায় বাজিমাত করেছে সেলিমা। বাসন্তীর ফুলমালঞ্চ ঋতু ভকত হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী সেলিমা।
১৫ অগস্ট দিল্লির লালকেল্লায় দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পেয়েছে সেলিমা। এই খবর গ্রামে পৌঁছনো মাত্রই আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। কিন্তু সেলিমার পরিবারে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। কারণ, দিল্লির আমন্ত্রণপত্রে যাতায়াত ও আনুমানিক খরচের যা বোঝা, তা বহন করার ক্ষমতা ছিল না এই পরিবারের। ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাস সেলিমা ও তাঁর পরিবারকে দিল্লি যাওয়ার টিকিট কেটে দেন।
সেলিমার বাবা পেশায় একজন দিনমজুর। তাঁর অভিযোগ, একাধিকবার তৃণমূল সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েও মেলেনি একটি পাকা ঘর। এবার মেয়ে দিল্লি যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় আশার আলো দেখছেন তিনি।
