নয়াদিল্লি: এসআইআর প্রক্রিয়ায় অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া আবেদনের নিষ্পত্তির জন্য সময়সীমা বাড়াতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির তরফে বলা হয়েছে, প্রচুর আবেদন এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। সমস্ত আবেদনের নিষ্পত্তির জন্য সময় লাগবে। সেই কারণেই আবেদনের নিষ্পত্তির জন্য সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এক মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এই আবেদনের কথা জানালেন CJI সূর্য কান্ত।
মুর্শিদাবাদের ৭৫ বছর বয়সী এক আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম বাদ পড়েছে। অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানান তিনি। তাঁর আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই আইনজীবী। এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে ওই আইনজীবীর আবেদনের শুনানি হয়। আবেদনকারীর তরফে আইনজীবী শাকিল শেখ বলেন, তাঁর মক্কেলের আবেদন গত ২৭ মার্চ থেকে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের কাছে পড়ে রয়েছে। কিন্তু, তা বিবেচনা করা হয়নি। আইনজীবী শাকিল শেখ বলেন, তাঁর আইনজীবী জেলা আদালতে ৫০ বছরের বেশি ওকালতি করছেন।
মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, দুই মাসের মধ্যে বর্ষীয়ান আইনজীবীর মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালকে। তবে CJI বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা আপনার সঙ্গে সহমত যে, আপনাকে পশ্চিমবঙ্গের একজন প্রকৃত নাগরিক মনে হচ্ছে। কিন্তু, আপনি জানেন আমরা একটা ব্যবস্থা তৈরি করেছি।” এই মামলার শুনানির সময়ই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আবেদনের কথা উল্লেখ করেন CJI। তিনি জানান, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির তরফে জানানো হয়েছে যে ট্রাইব্যুনালে প্রচুর আবেদন এখনও বিবেচনাধীন। তাই অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালে SIR মামলার নিষ্পত্তির সময়সীমা বাড়ানো হোক।
বাংলায় গত বছরের নভেম্বরের শুরুতে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকায় বের করা হয়েছিল। সেই সময় ৬০ লক্ষের নাম বিবেচনাধীন ছিল। বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা নামের নিষ্পত্তির জন্য জুড়িশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করা হয়। তাতে প্রায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়ে। এই ২৭ লক্ষ আবেদন করেন অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। ট্রাইব্যুনালের কাছে জমা পড়া আবেদনগুলির নিষ্পত্তির জন্যই সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।
