ছাব্বিশের বঙ্গভোটে কার্যত নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের দিন অর্থাৎ গত ২৯ এপ্রিল অশান্তি হওয়ায় সেখানকার ২৮৫ টি বুথে ফের ভোটগ্রহণের কথা জানিয়েছে। আগামী ২১ মে ফলতায় পুনর্নির্বাচন হবে। গণনা ও ফলপ্রকাশ ২৪ মে। আর কমিশনের এই সিদ্ধান্তের জন্য কড়া ভাষায় সমালোচনা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার রাতে এক্স হ্যান্ডল পোস্টে তাঁর আক্রমণ, ‘১০ জন্ম চেষ্টা করেও ডায়মন্ড হারবার মডেলে দাঁত ফোটাতে পারবে না এই বাংলা বিরোধী গুজরাটি ও তাদের দালাল জ্ঞানেশ কুমার। যা খুশি সঙ্গে নিয়ে ফলতায় আসুন। এমনকী গোটা ভারত, দিল্লি থেকে গডফাদারদের নিয়ে আসুন। স্নায়ুর জোর থাকলে ফলতায় লড়াই করুন।’
শনিবার রাতেই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন ঘোষণা করেছে কমিশন। নজিরবিহীনভাবে গোটা বিধানসভায় ফের ভোট হবে। ভোটের দিন অর্থাৎ গত ২৯ এপ্রিল এখানকার গুটিকয়েক বুথে অশান্তি, কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। সেই কারণে একটি কেন্দ্রের ফলঘোষণা স্থগিত করে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সাম্প্রতিক অতীতে বেনজির। এর নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তা স্পষ্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্টেই। কমিশনকে এনিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেকের মত, ফলতায় যত না নির্বাচনী যুদ্ধ হতে চলেছে, তার চেয়ে বেশি হবে স্নায়ুর লড়াই।
আরও পড়ুন:
Ten lifetimes won’t be enough for your Bangla Birodhi Gujarati gang and their stooge Gyanesh Kumar to put even a dent in my DIAMOND HARBOUR MODEL.
Bring everything you have got. I challenge the entire Union of India- Come to Falta. Send your strongest, send one of the… https://t.co/Db7yIsQXj7
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) May 2, 2026
অভিষেকের পাশাপাশি ভিডিও বার্তায় এই পুনর্নির্বাচন নিয়ে তোপ দাগলেন তৃণমূল প্রার্থী তথা দলের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষও। ভোটের তিনদিন পর এনিয়ে কমিশনের তৎপরতা নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘গোটা ফলতা জুড়ে রিগিং হলো আর আপনারা দিনের দিন ধরতে পারলেন না? গন্ডারের গায়ে সুড়সুড়ি দিলে, তিনদিন পর হাসে। তো আপনাদেরও সেই অবস্থা। এত রিগিং হলো যে ডে অফ ইলেকশন ধরতে পারলেন না?”


তাঁর আরও দাবি, ফলতায় ভোটের দিন দায়িত্বে থাকা পুলিশ পর্যবেক্ষক ‘সিংঘম’ অজয় পাল শর্মাকে সাসপেন্ড করা হোক। এনিয়ে কুণালের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘‘আপনাদের মুজরো সিংঘম! সে তো এত ডায়লগ দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল! আর এত রিগিং হল! ওকে আগে সাসপেন্ড করুন। ও কেন পার পেয়ে যাবে? এত কোম্পানি আধা সেনা ছিল, তাঁরা গোটা ফলতা জুড়ে রিগিং ধরতে পারল না? নির্বাচন কমিশন যেটা করেছে, সেটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং যখন যে সময় এই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ততক্ষণে ২৩০-এর বেশি আসন নিয়ে মমতা বন্দোপাধ্যায় সরকার গঠন করে ফেলেছেন এবং ফলতাতেও আবার তৃণমূলের প্রার্থী জিতবে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
