ছবির উৎস, Reuters
Published
পড়ার সময়: ৪ মিনিট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর শেষ হতে না হতেই বেইজিংয়ে গেলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার গভীর রাতে তাকে বহরকারী বিমানটি বেইজিংয়ে অবতরণ করে। এসময় পুতিনকে স্বাগত জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
চলতি বছর এটিই রুশ প্রেসিডেন্টের প্রথম বিদেশ সফর। বুধবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।
এরপর দু’দেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে একটি দীর্ঘ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
সকালে শি এবং পুতিনের মধ্যকার বৈঠকটি হয়েছে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অফ দ্য পিপলে। দুই নেতা একসঙ্গে হেঁটে সেখানে প্রবেশ করেন।
বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন অতীতের মতোই চীনা প্রেসিডেন্ট শি’কে ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে অভিহিত করেছেন বলে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।
মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যকার সম্পর্ক এখন এক ‘অভূতপূর্ব উচ্চতায় পর্যায়ে’ পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেন পুতিন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই বৈঠকের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন বলেও জানান।
অন্যদিকে, শি তার উদ্বোধনী বক্তব্যে পুতিনকে বলেছেন, উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনে চীন ও রাশিয়ার একে অপরকে সহায়তা করা উচিত।
জবাবে পুতিন বলেছেন, বেইজিংয়ের জন্য মস্কো ‘নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী’ হিসেবেই থাকছে।
সেইসঙ্গে, আগামী বছর চীনা প্রেসিডেন্টকে রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, পররর্তী বৈঠকে দুই নেতা ঠিক কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন, সেটি পরিষ্কারভাবে জানানো হয়নি।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, বৈঠকে রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার ‘গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়গুলো’ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
ছবির উৎস, Reuters
অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুতিনের এই সফরের উদ্দেশ্য হলো দুই বন্ধু দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করা এবং ‘বিশ্বে বৃহত্তর স্থিতিশীলতা ও ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার করা’।
রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বেইজিং এখনও মস্কোর অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং রুশ তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।
এবারের বৈঠকেও দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা বাণিজ্যের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, চীন তেল ও গ্যাস আমদানি আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ।
সেইসঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের ইস্যুটিও আলোচনা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
ট্রাম্পের সফরেও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পাশাপাশি ইরান ইস্যুতে আলোচনা করেছেন শি জিনপিং। বৈঠক থেকে বেরিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সন্তোষ প্রকাশ করলেও ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, সেটি জানা যায়নি।
ছবির উৎস, Reuters
আলোচনা কী নিয়ে?
চীনে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের এটা ২৫ তম রাষ্ট্রীয় সফর। দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মঙ্গলবার রাতে বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর দেওয়া হয় গার্ড অব অনার।
বুধবারের বৈঠকের আলোচ্য বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোনোপক্ষই স্পষ্টভাবে কিছু জানায়নি। তবে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক যে আরও গভীর হতে চলেছে, সেটির বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছে চীন।
বুধবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছেন পুতিন। সংক্ষিপ্ত এই বৈঠক শেষে দু’দেশের প্রতিনিধি দলকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করার কথা রয়েছে।
এরপর একটি অনুষ্ঠান অংশ নিয়ে বেশকিছু নথিপত্রে স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে দুই নেতার। এর মধ্য দিয়ে দু’দেশের মধ্যে ‘কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার’ হবে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
নথিপত্র স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে একটি বিবৃতি প্রকাশ করতে পারে।
চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সাথে সাক্ষাৎ করবেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
সেইসঙ্গে, শৈশবে দেখা হওয়া এক চীনা প্রকৌশলীর সঙ্গেও দেখা করার কথা রয়েছে পুতিনের।
এছাড়া দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রাশিয়া-চীন সম্পর্ক নিয়ে প্রেসিডেন্ট শি’র সঙ্গে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ, সন্ধ্যায় একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাওয়া এবং সবশেষে চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের।
ছবির উৎস, Getty Images
পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর বেইজিংয়ের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক, বিশেষ করে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।
তাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের একটি প্রধান ক্ষেত্র হলো জ্বালানি সরবরাহ। চীন প্রতিবছর রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে।
এবারের বৈঠকের মধ্য দিয়ে গ্যাস আমদানিও বাড়তে যাচ্ছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
কারণ দীর্ঘ স্থবির থাকার পর অবশেষে নির্মাণ শেষ হতে চলেছে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ পাইপলাইনের। এটি ব্যবহার করে মস্কো বছরে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করবে চীনকে।
ফলে এটি চীনের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর সংকটের এই সময়ে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনায় তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ফলে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ছবির উৎস, Getty Images
এমন অবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ব বাণিজ্যে। ফলে সেই বিষয়টি নিয়েও পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন শি।
ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা হওয়ায় ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে মনোভাব সম্পর্কে ধারণা রয়েছে চীনা প্রেসিডেন্টের। এখন রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর বিষয়টির একটি সুরাহা হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
অন্যদিকে, আলাচনায় ইউক্রেন যুদ্ধও স্থান পেতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনে সামরিক অভিযান টিকিয়ে রাখতে চীনে জ্বালানি রপ্তানির ওপর নির্ভর করছে রাশিয়া।
এই যুদ্ধের বিষয়ে চীন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে চলেছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞারও সমালোচনা করেছেন এবং পদক্ষেপ গুলোকে ‘অবৈধ ও অযৌক্তিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি।
