পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ কঠোর ভাবে কার্যকর করতে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্য সরকার। কলকাতা হাই কোর্টের ২০১৮ সালের রায় এবং ২০২২ সালের সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। রাজ্যের সমস্ত বৈধ কসাইখানাকে এই নির্দেশ কঠোর ভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট শংসাপত্র ছাড়া কোনও প্রাণী জবাই করা যাবে না। ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মহিষ এবং মহিষের বাছুর— সব ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
কারা দেবেন শংসাপত্র?
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সরকারি পশুচিকিৎসক যৌথ ভাবে জবাই-উপযোগিতার শংসাপত্র দিতে পারবেন। যদি কোনও প্রাণী বয়স, আঘাত, রোগ বা অক্ষমতার কারণে শ্রম বা প্রজননের উপযুক্ত না থাকে, তা হলে তাকে জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
যদি শংসাপত্র দিতে অস্বীকার করা হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

কোথায় জবাই করা যাবে?
সরকার জানিয়েছে, অনুমোদিত প্রাণী শুধুমাত্র পুরসভার নির্দিষ্ট জবাইখানা বা প্রশাসন নির্ধারিত স্থানে জবাই করা যাবে। কোনও উন্মুক্ত জনসমাগমস্থলে জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এ ছাড়াও, আইন কার্যকর করতে সরকারি আধিকারিক বা পশুচিকিৎসক কসাইখানা পরিদর্শনে গেলে কেউ বাধা দিতে পারবেন না বলেও নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আইন ভাঙলে কী শাস্তি?
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছ’মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দু’টিই একসঙ্গে প্রযোজ্য হতে পারে। ১৯৫০ সালের এই আইনের আওতায় সব অপরাধকেই ‘গুরুতর’ বলে গণ্য করা হবে।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট এবং কলকাতা হাই কোর্টের প্রাসঙ্গিক রায়গুলিও সরকারি ওয়েবসাইটে আপলোড করা রয়েছে।
সূত্র: আনন্দবাজার
