‘তুলনা বন্ধ করুন…’, মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে বড় কথা ঝুলন গোস্বামীরImage Credit: PTI

ক্রিকেট তো ক্রিকেটই, তা সে ছেলেরা খেলুক বা মেয়েরা। কিন্তু সকল ক্রীড়াপ্রেমীদের মত কি এক? বরাবরই ভারতে পুরুষদের ক্রিকেটে জৌলুস বেশি দেখা গিয়েছে। ক্রিকেট মহলের মতে, সেই দিক থেকে তুলনা করতে গেলে বেশ খানিক যোজন দূরে ভারতের মহিলা ক্রিকেট। অবশ্য শেষ কয়েক বছরে মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বাড়ছে। দেশের মাটিতে মেয়েদের বিশ্বকাপ চলছে। তা নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনা কতটা? প্রচারই বা কতটা? এই প্রসঙ্গে জানতে টিভি নাইন বাংলার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল কিংবদন্তি ভারতীয় প্রাক্তন ক্রিকেটার ঝুলন গোস্বামীর সঙ্গে। কী বললেন তিনি?

চাকদা এক্সপ্রেসের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়, মেয়েদের ক্রিকেটে অতীতের থেকে বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু উন্মাদনা অর্থাৎ ছেলেদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ হলে সকলের মুখে মুখে যে কথাটা ঘোরে, মেয়েদের ক্রিকেটে এই ক্ষেত্রে কতটা পরিবর্তন হয়েছে? মেয়েদের ক্রিকেটে এই উন্মাদনা কি দেখা যায়? এই প্রসঙ্গে ঝুলন বলেন, “এই প্রশ্নটা ৫ বছর আগে করলে আমি ভাবতাম। কিন্তু আজকের দিনে উন্মাদনা নেই এই কথাটা হয়তো বলছে বাংলা মিডিয়া। কারণ, কলকাতায় কোনও ম্যাচ হচ্ছে না। কিন্তু দেশের যে সকল জায়গায় খেলা হচ্ছে, সেখানে গেলে বোঝা যাবে কেমন উন্মাদনার সঙ্গে সকলে মেয়েদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ সেলিব্রেট করছে। না হলে গ্যালারি হাউসফুল হয় না।”

ঝুলন মেয়েদের বিশ্বকাপে হাউসফুল গ্যালারির প্রসঙ্গ তুলে আরও বলেন, “আইসিসির রিপোর্ট অনুযায়ী ভাইজ্যাগে শেষ ম্যাচে গ্যালারি হাউসফুল হয়েছিল। তা ছাড়া গুয়াহাটিতে ওপেনিং সেরেমনিতে বিপুল পরিমাণ দর্শকদের দেখা গিয়েছে। মেয়েদের ক্রিকেটে এত ভাল ভাবে এত বড় করে ওপেনিং সেরেমনি এর আগে হয়নি। এর আগে ২০২০ সালে টি-২০ বিশ্বকাপের সময় আমরা সমাপ্তি অনুষ্ঠান দেখেছি অস্ট্রেলিয়াতে। কিন্তু ওপেনিং সেরেমনি এত ভাল ভাবে হয়নি।”

ভারতীয় কিংবদন্তি ঝুলনের মতে মেয়েদের ক্রিকেট অতীতের তুলনায় অনেক এগিয়ে গিয়েছে। এই নিয়ে বলতে গিয়ে চাকদা এক্সপ্রেসের মত, “যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় সারাক্ষণ চর্চা চলছে, তাতে আমার কোনও জায়গা থেকে মনে হয় না যে, মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে কোনও উন্মাদনা নেই। তবে বলা যায় যে, ২৪x৭ যে চ্যানেলগুলো রয়েছে বা ক্রিকেটের কোনও শো-তে যে বিশেষজ্ঞরা বসেন, তাঁরা হয়তো বিশেষ চর্চা করছে না। কিন্তু আমার মত যদি জানতে চান, হলে বলব মেয়েদের ক্রিকেট অনেক এগিয়েছে। আমাদের দেশে মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে অনেক সম্ভবনাও রয়েছে।”

প্রসঙ্গ ছেলেদের ক্রিকেটের প্রচারের সঙ্গে মেয়েদের ক্রিকেটের প্রচারের ফারাক হলেও ঝুলন এই তুলনাটাতেই রাজি নন। তিনি বলেন, “ছেলেদের ক্রিকেটের সঙ্গে মেয়েদের ক্রিকেটের ওই তুলনাটাই আমি করতে চাইছি না। মেয়েদের ক্রিকেটকে বলতে হবে গ্রোয়িং স্পোর্টস। আর ছেলেদের ক্রিকেট অলরেডি প্রতিষ্ঠিত। ভারতে তো বটেই বিশ্বের অন্য জায়গাতেও নজর দিলে দেখা যাবে মেয়েদের ক্রিকেটের উন্নতি হচ্ছে। তাই আমি কোনওরকম তুলনায় যেতে চাই না। আমরা যেমন ভারতীয় ফুটবল নিয়ে কোনও চর্চা করি না, শুধু ইউরোপিয়ান লিগগুলো নিয়ে চর্চা করি, সেরকমই বিষয়টা। কেউ যদি খেলা ভালবাসে, তা হলে দেখতে হবে। যদি সব সময় তুলনার দিকে পা বাড়াও, তা হলে বুঝতে হবে তুমি ক্রীড়াপ্রেমী নও। সব সময় কোথাও না কোথাও ফাঁকফোকর খুঁজে বেড়াও।”

আইসিসি, বিসিসিআই সমান ম্যাচ ফি-র কথা ঘোষণা করেছে। সেইসঙ্গে টেলিভিশনে প্রচারও বাড়ছে। কিন্তু এখনও দীর্ঘ পথ বাকি। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, সমান প্রচার, সমান সুযোগ ও সমাজের মানসিক পরিবর্তন, এই তিনটিই মেয়েদের ক্রিকেটকে প্রকৃত মর্যাদা দিতে পারে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *