২০২১। বিধানসভার আগে নন্দীগ্রামে প্রচারে গিয়ে আচমকা ঘোষণা করেছিলেন, সেখান থেকেই লড়বেন। বলেছিলেন, ভবানীপুর তাঁর ‘বড় বোন’। নন্দীগ্রাম ‘মেজো বোন’। একুশে সেই ‘মেজো বোন’ আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরেছিলেন মমতা। ছাব্বিশে ফের নন্দীগ্রামে তো বটেই সেই সঙ্গে মমতার তথাকথিত ‘বড় বোন’ ভবানীপুরেও তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানান শুভেন্দু। রাজ্যে বিজেপির বিপুল হাওয়ায় দুই আসন থেকেই জিতেছেন হবু মুখ্যমন্ত্রী। আগের বার তৃণমূলনেত্রীকে হারান নিজের গড়ে, এবার হারান মমতার গড়েই। সঙ্গে সঙ্গে উঠে আসে অবধারিত প্রশ্ন, দুই আসনের বিধায়ক কোন আসন নিজের হাতে রাখবেন? আর কোন আসন ছাড়বেন?
এই বিষয়ে আরও খবর
বিজেপি সূত্রের খবর, এর আগে যে আসন তিনবার তাঁকে বিধানসভায় পাঠিয়েছে সেই নন্দীগ্রাম ছেড়ে দিচ্ছেন শুভেন্দু। দলীয় স্তরেই ওই সিদ্ধান্ত হয়েছে। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরই গড়ে ঢুকে হারানোটা চাট্টিখানি কথা নয়। এটা শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক কেরিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য। ফলে ভবানীপুর ছেড়ে দিলে ভালো বার্তা যাবে না। তাছাড়া শুভেন্দু যেহেতু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন, তাই কলকাতার কোনও আসনে তিনি বিধায়ক থাকলে প্রশাসনিক কাজেরও সুবিধা। নাহলে জেলা থেকে রাজধানীতে যাতায়াতটা প্রশাসনিকভাবে বেশ কঠিন।
বিজেপি সূত্রের খবর, এর আগে যে আসন তিনবার তাঁকে বিধানসভায় পাঠিয়েছে সেই নন্দীগ্রাম ছেড়ে দিচ্ছেন শুভেন্দু। দলীয় স্তরেই ওই সিদ্ধান্ত হয়েছে। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরই গড়ে ঢুকে হারানোটা চাট্টিখানি কথা নয়। এটা শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক কেরিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য। ফলে ভবানীপুর ছেড়ে দিলে ভালো বার্তা যাবে না।
বিজেপি মনে করছে, শুভেন্দু অধিকারীর নিজের জেলার নন্দীগ্রাম আসন তিনি ছেড়ে দিলেও রাজনৈতিকভাবে বিশেষ প্রভাব পড়বে না। তাছাড়া ওই আসনটি শুভেন্দুর পকেট সিট। সেখান থেকে জিতে আসতে কোনও কাঠখড়ও পোড়াতে হবে না। ফলে ওই আসনে শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ কাউকে প্রার্থী করে বিধানসভায় আনা যাবে। সেই প্রার্থীটি কে হবেন, সেটাও একপ্রকার চূড়ান্ত। শোনা যাচ্ছে, নন্দীগ্রাম থেকে বিজেপি প্রার্থী করতে পারে শুভেন্দুর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ অনুগামী প্রলয় পালকে।
কে এই প্রলয় পাল? শুভেন্দুর সঙ্গে তৃণমূলে ছিলেন তিনি। রাজ্যের হবু মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই গেরুয়া শিবিরে যোগ। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে লড়াই করার সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই প্রলয় পালকে ফোন করেন। নির্বাচনে সাহায্য করার আর্জি জানান। কিন্তু প্রলয় খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সেই ফোন অগ্রাহ্য করে শুভেন্দুর প্রতি আনুগত্য বজায় রাখেন। সেসময় মমতা-প্রলয় পালের ওই ফোনালাপের অডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। খোদ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে প্রত্যাখ্যান করা সেই প্রলয়ই উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামে বিজেপি বাজি হতে পারেন।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
