শ্রমিকের রক্তে রাঙানো মহান ‘মে দিবস’ শুক্রবার (১ মে)। যে দিবসের মাহাত্ম নিয়ে বিশ্বের সব ভাষায়, সব দেশে লেখা হয়েছে প্রচুর গল্প, কবিতা, উপন্যাস। সংগীতশিল্পীরা গেয়েছেন প্রচুর গান। শ্রমজীবী মানুষের জীবন, যাপন ও অধিকার নিয়ে হয়েছে বহু সিনেমা। যে সিনেমাগুলো শুধু বিনোদন নয়, বরং চিন্তার খোরাকও জোগায়। নিচে তেমন কিছু উল্লেখযোগ্য দেশ বিদেশের সিনেমার কথা থাকলো-

মডার্ন টাইমস (১৯৩৬, যুক্তরাষ্ট্র)

পরিচালনা ও অভিনয়: চার্লি চ্যাপলিন

শিল্প বিপ্লবোত্তর সময়ের এক শ্রমিক যান্ত্রিকতা, চাকরির চাপ ও সমাজের পুঁজিবাদী কাঠামোর সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প উঠে এসেছে পুরো সিনেমায়। এটি একইসঙ্গে হাস্যরসাত্মক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তীক্ষ্ণ একটি সিনেমা। সিনেমায় চ্যাপলিন যান্ত্রিক সমাজে শ্রমিকের অবস্থা ও আত্মসংকটকে দারুণভাবে তুলে ধরেছেন।

দ্য বাইসাইকেল থিফস (১৯৪৮, ইতালি)

পরিচালনা: ভিট্টোরিও ডি সিকা

সিনেমাটি ইউরোপের নিউ ওয়েভের অন্যতম দৃষ্টান্ত। ফ্যান্টাসির বাইরে গিয়ে জীবনঘনিষ্ট সিনেমা হিসেবে রয়েছে এর আলাদা কদর। গরীবের জীবনের ক্ষুদ্র সংকটও কতটা গভীর হতে পারে তার এতো জীবন্ত রূপ এরআগে সিনেমায় খুব একটা দেখা যায়নি। রোম শহরে এক দরিদ্র শ্রমিকের বাইসাইকেল চুরি হয়ে যায়, যা তার একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। সে ও তার ছোট ছেলে সেই বাইসাইকেল খুঁজতে শহরজুড়ে ঘুরে বেড়ায়।

সরি উই মিসড ইউ (২০১৯, যুক্তরাজ্য)

পরিচালনা: কেন লোচ

এক মধ্যবিত্ত পরিবারের পিতা অনলাইন ডেলিভারি ড্রাইভার হিসেবে কাজ শুরু করে। ‘সেলফ-এমপ্লয়ড’ নামের প্রতারণামূলক ব্যবস্থার কারণে তার পরিবার একে একে ভেঙে পড়ে। আধুনিক গিগ ইকোনমি ও শ্রমিক শোষণের দুর্দান্ত পোট্রে ‘সরি উই মিসড ইউ’ ছবিটি।

মেড ইন বাংলাদেশ (২০১৯, বাংলাদেশ)

পরিচালনা: রুবাইয়াত হোসেন

শিমু নামে এক গার্মেন্টস কর্মী সহকর্মীদের অধিকার আদায়ের জন্য একটি শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের চেষ্টা করে। সমাজ ও পুঁজিবাদের বাঁধার মুখে দাঁড়িয়ে সে নিজের আত্মমর্যাদার জন্য লড়ে যায়। সিনেমাটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেশ সুনাম অর্জন করে। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কর্মরত নারীদের সংগ্রাম ও অধিকার নিয়ে এমন গল্পে কখনো সিনেমা নির্মাণ হয়নি। বাংলাদেশসংবাদ

পিপলি লাইভ (২০১০, ভারত)

পরিচালনা: আনুশা রিজভি

দু’জন দরিদ্র কৃষক চরম হতাশায় আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়, কারণ এতে সরকার ক্ষতিপূরণ দেয়। মিডিয়া ও রাজনীতি কীভাবে সেই ঘটনাকে ব্যবহার করে, তা ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। কৃষকের আত্মহত্যা, মিডিয়া ও রাজনৈতিক চাতুরী এতো দুর্দান্তভাবে এই সিনেমায় উঠে আসে- যেটিকে ভারতের মেহনতি মানুষ তথা কৃষকের হৃদয়ের খুব কাছের হয়ে উঠে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *