প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা প্রকাশ রায়। শ্রীমঙ্গল থিয়েটারের এক অনিবার্য নাম কিন্তু জীবনের পথচলায় বেশ আগেই পাড়ি জমান ফ্রান্সে। সেখানেও তিনি ভেসে বেড়ান লাল-সবুজের বাংলাদেশ, তার প্রিয় শহর-বন্দর আর শ্রীমঙ্গলকে বুকে নিয়ে। কিছুদিন আগে নির্মাণ করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র, প্রদর্শিত হয়েছে বিভিন্ন দেশে।

এবার তিনি বাংলাদেশের বেদে সম্প্রদায়ের জীবনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছেন লা ভি ফ্লোট্টান্তে বা ‘ভাসমান জীবন’। গত ২৬ এপ্রিল প্যারিসের সাংস্কৃতিক ভেন্যু লা ক্যামিলিয়েনে প্রদর্শিত হয় এই ৩০ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্র। নদীর বুকে ভাসমান মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম, অনিশ্চয়তা এবং নিজস্ব সংস্কৃতিকে পর্দায় তুলে ধরেছেন নিপুণ হাতে। বেদেরা শুধু একটি সম্প্রদায় নয়, এটি বাংলার নদীমাতৃক সভ্যতার এক বিলীয়মান অধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে যাযাবর এই জনগোষ্ঠী নৌকাকেই ঘর বানিয়ে বেঁচে আছে। কিন্তু নদীভাঙন, অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক নানা বাধার কারণে তাদের ঐতিহ্য হুমকির মুখে। সামাজিক স্বীকৃতির অভাবে অনেক তরুণ বেদে এখন আর সাপ খেলানো বা ভেষজ ওষুধ বিক্রির পেশায় যেতে চায় না, তাদের এই বৈচিত্র্যময় জীবনকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই তার এই নির্মাণ বলে জানান নির্মাতা প্রকাশ রায়।
প্রদর্শনী শেষে দর্শকদের নানা জিজ্ঞাসার মুখোমুখি হন নির্মাতা প্রকাশ রায়। বাংলাদেশী তথ্যচিত্র নির্মাতা বিশ্ব দরবারে এই ভাসমান জনগোষ্ঠীর গল্প বলেছেন। প্যারিসের মতো জায়গায় এই ছবি প্রদর্শিত হওয়ায় নির্মাতারা মনে করছেন, বাংলাদেশের নদী ও বেদে সম্প্রদায়ের টিকে থাকার লড়াই এখন আন্তর্জাতিক দর্শকের নজর কেড়েছে। জয় ব্যানার্জির সহযোগিতায় এই তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্যারিসে ঐ সন্ধ্যায় প্রামাণ্যচিত্র প্রদশর্নীর সাথে সাথে বাংলা নববর্ষও উদযাপন করা হয়। সেখানে সংগীত, নৃত্য ও কবিতার মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেন কণ্ঠশিল্পী আরিফ রানা, কুমকুম সৈয়দা, মৌসুমি চক্রবর্তী, পাপিয়া পাল, নেভি তালুকদার ও সোমতীর্থা বাসু মুখার্জি। আবৃত্তিতে অংশ নেন সাইফুল ইসলাম ও অর্পিতা রায়। নৃত্য পরিবেশন করেন সৃজনশীল নৃত্যাঙ্গনের শিক্ষক ও নৃত্যশিল্পী শরিফুল ইসলাম এবং তার শিক্ষার্থীরা, যাদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানে বিদেশি দর্শকদের মধ্যে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠছে।


