পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটে নজিরবিহীন অংশগ্রহণের ছবি সামনে এল। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এদিন মোট ৯২.৪৭ শতাংশ ভোট পড়েছে রাজ্যে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু—দুই রাজ্যেই এত বেশি ভোটদানের নজির এই প্রথম। ভোটারদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণকে তিনি গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা হিসেবেই দেখছেন।

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও এই বিপুল ভোট নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এবারের উচ্চ ভোটদানের অন্যতম কারণ বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে মানুষের উদ্বেগ। তাঁর দাবি, অনেকেই মনে করেছেন ভোট না দিলে ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে, তাই প্রায় সবাই ভোট দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে ভোটার তালিকা থেকে বহু ‘অস্তিত্বহীন’ নাম বাদ পড়ায় প্রকৃত ভোটদানের হার আরও স্পষ্ট হয়েছে। আগে প্রায় ৮-৯ শতাংশ ভুয়ো বা অকার্যকর ভোটার তালিকায় থাকায় শতাংশ তুলনামূলক কম দেখাত। এবার তালিকা পরিষ্কার হওয়ায় ভোটের হার স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিযায়ী শ্রমিকদের বড় অংশের প্রত্যাবর্তন। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হাজার হাজার শ্রমিক শুধু ভোট দিতেই রাজ্যে ফিরেছেন বলে খবর।

উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—প্রায় সর্বত্রই ভোটারদের উৎসাহ চোখে পড়ার মতো ছিল। তীব্র গরম উপেক্ষা করে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও কোথাও ৩০০-৪০০ মিটার পর্যন্ত লাইনও দেখা গিয়েছে। যদিও বিচ্ছিন্ন কিছু অশান্তির খবর মিলেছে, তবু মোটের উপর ভোটপর্ব শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে সর্বোচ্চ ভোটদানের হার ছিল ৮৪.৩৩ শতাংশ। সেই রেকর্ড এবার অনেকটাই ছাপিয়ে গিয়েছে। জাতীয় স্তরেও পশ্চিমবঙ্গ পিছনে ফেলেছে অসম (৮৫.৩৮%) ও পুদুচেরি (৮৯.৯৩%)-কে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল এবং এই ভোটদানের হার নতুন সর্বভারতীয় নজির গড়বে কি না, তা নির্ভর করছে পরবর্তী দফার ভোটের উপর। ফলাফল জানা যাবে ৪ মে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *