কথায় বলে, স্বাস্থ্যই সম্পদ। ব্যক্তিগত হোক কিংবা অফিসের কাজকর্মে অনেকেই আজকাল এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্য নেন। Google জেমিনি, চ্যাটজিপিটি বা অ্যানথ্রোপিক প্লার্টফর্মগুলি এখন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় AI প্ল্যার্টফর্মগুলির অন্যতম, যা যাবতীয় প্রশ্নর উত্তর দিতে পারে এক নিমেষে। অনেকেই আজকাল অসুখ করলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার চাইতে বাড়িতে এআই প্রযুক্তির ওপর বর্তমানে বেশি ভরসা করেন। অনেকেই আজকাল অসুস্থ হলে বা কোনও শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে জেমিনি বা চ্যাটজিপিটিতে অসুখের লক্ষণগুলি লিখে কী রোগ হয়েছে সেই উত্তর জানতে চায়। অনেকে আবার একধাপ এগিয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট অসুখের চিকিৎসা, ওষুধ সম্পর্কেও চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করে। কিন্তু সম্প্রতি BMJ Open জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, জনপ্রিয় এআই (AI) চ্যাটবটগুলো থেকে প্রাপ্ত চিকিৎসার ৫০ শতাংশ পরামর্শই ভুল।
জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠা প্রযুক্তির হাত ধরে কীভাবে স্বাস্থ্যর ঝুঁকি বাড়ছে, এনিয়ে আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেনের গবেষকরা চ্যাটজিপিটি, জেমিনি, মেটা এআই, গ্রোক আর ডিপসিকের মতো জনপ্রিয় এআই প্লাটফর্মগুলি নিয়ে কাজ করেন। স্বাস্থ্য বিষয়ের ৫টি ক্ষেত্র নিয়ে ১০টি করে প্রশ্ন করা হয়। গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল এআই প্ল্যাটফর্মগুলিতে বিভিন্ন অসুখের লক্ষণ, চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন করা। এই সমীক্ষায় ChatGPT, Gemini, Meta AI, Grok এবং DeepSeek-প্রতিটি চ্যাটবটকে স্বাস্থ্য বিষয়ক মোট ১০টি করে প্রশ্ন করা হয়েছিল। গবেষকরা দেখেছেন প্রশ্নগুলির উত্তরের ৫০% উত্তরই ভুল। ২০% উত্তর সমস্যাযুক্ত।
ক্যানসার বা কোন রোগে কোন ধরণের টিকা দেওয়া হবে এই ধরনের প্রশ্নে AI সঠিক উত্তরই দিচ্ছে। কিন্তু কোনও জটিল অসুখ যেমন অটোইমিউন রোগ, স্টেম সেল থেরাপি, পুষ্টিজনিত প্রশ্ন আর মস্তিষ্কর অসুখ সংক্রান্ত রোগের প্রশ্ন করলে AI তার ভুল ব্যাখা করছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে উত্তর দিতে AI-কে বেশ বেগও পেতে হয়েছে। এমনকি, মেটাএআই ২টি প্রশ্নর উত্তর এড়িয়ে গেছে।
