পর্যাপ্ত ঘুম হলে আমাদের ঘুম থেকে ওঠার পর তরতাজা লাগে। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম রাতে না হলে সকালে উঠলে ক্লান্ত ও অবসন্ন লাগে। মানব শরীর ইন্টারনাল ক্লক বা circadian rhythm মেনে চলে। এই অভ্যন্তরীন ঘড়ি আমাদের ঘুমকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই রুটিনের ব্যাঘাত ঘটলে আমাদের সহজে ঘুম আসে না। দেশ জুড়ে করা এক সমীক্ষা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, পর্যাপ্ত সময় ধরে ঘুমোচ্ছেন না অধিকাংশ ভারতীয়। LocalCircles রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গত ১২ মাস ধরে ৪৬% ভারতীয় ৬ ঘণ্টার কম ঘুমিয়েছেন। গত বছর সংখ্যাটা ছিল ৫৯%। ভারতের ৩৯৩টি জেলায় ৮৯ হাজার মানুষের ওপর গবেষণা চালানো হয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, ঘুম হল গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় শারীরিক প্রক্রিয়া যা শরীর, মনের ও বিশেষ করে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ঠিকঠাক রাখার জন্য জরুরি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পুষ্টির মতোই শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি। কারণ, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে ঘুমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমরা যখন ঘুমোই তখন শরীরে cytokines নামে প্রোটিন তৈরি হয় যা রোগভোগ, সংক্রমণকে প্রতিহত হয়। তাই রোজ যদি ঘুম কম হয়, তাহলে এই প্রোটিনের নিঃসরণের দফারফা হয়। নানান রকম রোগ হয়। Journal of Neuroscience জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, একদিন রাতে কম ঘুম হলে মস্তিষ্কের বয়স বেড়ে যায় কমপক্ষে ২ বছর। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম হলে আবার ”brain age” ঠিক হয়ে যায়। রোজ যদি ঘুম কম হয় তাহলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে হরমোনের নিঃসরণের ওপর। খিদে ভাব, মনের আত্মতৃপ্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে লেপটিন, ঘ্রেলিন নামক হরমোন। ঘুম কম হলে লেপটিন হরমোনের নিঃসরণ বেশি হয়। খিদে পায় বেশি। ঘ্রেলিন হরমোনের নিঃসরণ বেশি হলে হাবিজাবি ভাজাভুজি খাবারের প্রতি আসক্তি বাড়ে। হরমোনের ভারসাম্যে গন্ডগোলের জেরে ওজন বাড়ে। ঘুম কম হলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটে। স্মৃতিশক্তি কমে যায়। সহজে মনে থাকে না কিছু। ধৈর্য্য থাকে না। সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হয়।
এছাড়াও দীর্ঘ সময় ধরে ঘুম কম হলে হার্ট ডিজিজ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, স্থুলতার মতো ক্রনিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ঘুম কম হলে রক্তে শর্করার মাত্রায় গন্ডগোল হয়, মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে।
দেশ জুড়ে চলা সমীক্ষায় টানা ঘুম না হওয়া, ঘুমের ব্যাঘাতের পেছনে রাতে বারবার ঘুম ভেঙে গিয়ে প্রস্রাব পাওয়া, বাইরের অতিরিক্ত আওয়াজ, মানসিক উদ্বেগ ও অবসাদ, দীর্ঘ সময় ধরে কাজকর্ম, খাটাখাটুনি, মোবাইল, ল্যাপটপ ও কম্পিউটারে, রাতে দেরিতে খাওয়া ও কাজের জন্য মানসিক চাপকে দায়ী করা হয়েছে।
