পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়ে বিতর্কের মাঝেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়বে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করবে ভোটের ব্যবধান ও কত শতাংশ ভোটার ভোট দিতে পারেননি—এই দুইয়ের উপর।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন,
“যদি ১০ শতাংশ ভোটার ভোট না দেন এবং জয়ের ব্যবধান ১০ শতাংশের বেশি হয়, তবে তাতে ফলাফলে প্রভাব পড়বে না। কিন্তু যদি ব্যবধান ৫ শতাংশের কম হয়, তাহলে বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে।”

এই মন্তব্যের ফলে স্পষ্ট, আদালত সরাসরি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে চাইছে না, তবে ভোটার বঞ্চনার প্রভাবকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্যও করছে না। অর্থাৎ, ভোটের অঙ্কই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কোনও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠবে কি না।

আদালত আরও জানায়, বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ না পড়লে নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে না। তবে যদি কম ব্যবধানের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন, তাহলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এই প্রসঙ্গে বিচারপতি বাগচি বলেন, ভোটাধিকার শুধু একটি সাংবিধানিক অধিকার নয়, এটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের প্রতীক।
“নিজের দেশে ভোট দেওয়া মানে গণতন্ত্রে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া,”—এই মন্তব্যও করেন তিনি।

এদিনের শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের (ECI) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ তালিকা তৈরি এবং বিপুল সংখ্যক নাম বাতিলের বিষয়টি নিয়ে আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিচারপতি বাগচি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোটাররা দুই সাংবিধানিক সংস্থার মধ্যে চাপে পড়েছেন।

যদিও আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া থামানো যাবে না। বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি, ভোটের ব্যবধান এবং বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা বিচার করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এই পর্যবেক্ষণ রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, আসন্ন নির্বাচনে ফলাফল নিয়ে কোনও আইনি চ্যালেঞ্জ উঠলে এই ‘ভোট ব্যবধান বনাম ভোটার বঞ্চনা’ তত্ত্বই বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *