মুখে একটা ছোট্ট ঘা, অথচ তার যন্ত্রণায় জীবন ওষ্ঠাগত! না ঠিকমতো কথা বলা যায়, না যায় আয়েশ করে ঝাল-মশলা দিয়ে কোনও খাবার খাওয়া যায়। ব্রাশ করতে গেলেও যেন মনে হয় ওই নির্দিষ্ট জায়গায় কেউ সূঁচ ফোটাচ্ছে। গালের ভেতরে, মাড়িতে বা জিভের ধারে হওয়া এই যন্ত্রণাদায়ক ঘাকেই  সাধারণ ভাষায় ‘মাউথ আলসার’ বলি। আর এই সমস্যায় কম বেশি সকলেই ভোগেন। শরীরে ভিটামিনের অভাব, অত্যধিক মানসিক চাপ কিংবা পেটের গোলমাল— কারণ যাই হোক না কেন, এই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে দামী ওষুধের আগে ঘরোয়া কয়েকটি সহজ উপাদানের ওপর ভরসা করে দেখতে পারেন। সমস্যা মিটবে নিমেষেই।

মধু

মিষ্টি এই মধু কিন্তু কেবল খাওয়ার জন্য নয়, ক্ষত সারাতেও দারুণ কাজ করে। মধুর মধ্যে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ ঘায়ের জ্বালা কমিয়ে দেয় খুব দ্রুত। আঙুলে করে সামান্য মধু নিয়ে ঘায়ের ওপর দিনে দু-তিনবার লাগিয়ে রাখুন। ঘা শুকিয়ে যাবে ঝটপট।

নারকেল তেল

রান্না বা চুলে মাখার নারকেল তেল কিন্তু ব্যথানাশক হিসেবেও কাজ করে। ঘায়ের জায়গায় সামান্য নারকেল তেল লাগিয়ে দিলে সেখানে একটা প্রলেপ পড়ে যায়। এর ফলে খাবার খাওয়ার সময় ঘষা লেগে যে জ্বালা হয়, তার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এটি ঘায়ের ফোলা ভাব কমাতেও সাহায্য করে।

ঠান্ডা টক দই

শরীর ভেতর থেকে গরম হয়ে গেলে অনেক সময় মুখে এমন আলসার হয়। সেক্ষেত্রে টক দই হল সেরা সমাধান। এক বাটি ঠান্ডা টক দই খেলে পেট ঠান্ডা থাকে এবং মুখের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য ফিরে আসে। দই খেলে ঘায়ের ওই বিচ্ছিরি জ্বালা ভাবটা খুব তাড়াতাড়ি কেটে যায়।

হলুদ জল

হলুদকে বলা হয় প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক। এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ জলের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে কুলকুচি করুন। দিনে দুবার এটি করতে পারলে সংক্রমণের ভয় আর থাকে না। আয়ুর্বেদ মতে, হলুদের ছোঁয়ায় মুখের ঘা খুব দ্রুত সেরে যায়।

বরফ 

যদি দেখেন ব্যথা অসহ্য হয়ে উঠেছে, তবে এক টুকরো বরফ নিয়ে সরাসরি ঘায়ের ওপর ধরুন। বরফ ওই জায়গাটিকে সাময়িকভাবে অবশ করে দেয়, ফলে তৎক্ষণাৎ যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

তবে যদি দেখেন আপনার মুখের ঘা কিছুতেই সারছে না কিংবা বারবার ফিরে আসছে, তবে সেটা ফেলে রাখবেন না। দীর্ঘস্থায়ী আলসার অন্য কোনও বড় সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, তাই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *