সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ২ বছর ধরে লাগাতার সংঘাতের পর অবশেষে গাজায় শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একেবারে শেষ মুহূর্তে সে আশায় জল ঢালল হামাস। রিপোর্ট বলছে, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা শান্তি চুক্তিতে সই করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে হামাস। চুক্তির শর্ত নিয়ে মতবিরোধের জেরে ফের আশঙ্কার মেঘ উঁকি দিল গাজা উপত্যকায়। সংবাদ সংস্থা এএফপির রিপোর্ট অনুযায়ী, চুক্তিতে হামাসকে গাজা ছেড়ে যাওয়ার যে শর্ত দেওয়া হয়েছে তাঁকে ‘অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেছে হামাস।

রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হোসাম বাদরান এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “প্যালেস্টিনীয়দের তাঁদের মাটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ওই চুক্তিতে। তা সে হামাসের সদস্য হোক বা না হোক। এই ধরনের শর্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অর্থহীন।” তিনি আরও বলেন, গাজায় শান্তি পরিকল্পনা দ্বিতীয়বার আলোচনার টেবিলে আনা বেশ কঠিন হবে। কারণ, এতে অনেক জটিলতা ও অসুবিধা রয়েছে। আগামী দু’দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য সফরের কথা ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। মিশরে পাশাপাশি অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলির উপস্থিতিতে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। তাঁর ঠিক আগে সব উলটপালট করে দিল হামাস।

এই চুক্তির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে হামাসের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে বেশকিছু রাজনৈতিক বাধা রয়েছে। হামাসের আত্মসমর্পণ ও অস্ত্রত্যাগ এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। হামাস গাজায় সরকার থেকে বেরিয়ে গেলেও এই শর্ত মানা অসম্ভব। সবমিলিয়ে ট্রাম্পের সাধের গাজা চুক্তি আপাতত বিশবাঁও জলে।

উল্লেখ্য, চুক্তির বাস্তবায়ন ও শান্তির লক্ষ্যে সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় বিবৃতি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর গত শুক্রবার চুক্তির একটি অংশ বাস্তবায়িত হয়। যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিয়ে গাজার কিছু অংশ থেকে সেনা প্রত্যাহার করে ইজরায়েল। যার জেরে গাজার ঘরছাড়া বাসিন্দারা ফের বোমা বিধ্বস্ত বাড়িতে ফিরতে শুরু করে। শনিবার হাজার হাজার প্যালেস্টিনীয়কে দেখা যায় গাজার উপকূল ধরে উত্তর দিকে যাচ্ছেন। কেউ পায়ে হেঁটে তো কেউ গাড়ি করে। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘শান্তি’তে জল ঢালল হামাস।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *