বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুন লাগার পর ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টের মূল ফটকে তালা দেওয়া হয়, যাতে কেউ বিল না দিয়ে বের হতে না পারে। আগুন ছড়িয়ে পড়লে অনেকে ছাদে আশ্রয় নিতে চাইলেও অবৈধ ডুপ্লেক্স রেস্টুরেন্ট থাকায় তা সম্ভব হয়নি। সিঁড়িতেও গ্যাস সিলিন্ডারসহ নানা বাধা থাকায় বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই অব্যবস্থাপনায় ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারির আগুনে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়।

গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় ২২ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে ভবনটির বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও সংশ্লিষ্টদের আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির সাতটি ধারায় অপরাধের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত শেষে মোট ৪ জনকে দায়মুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে। দুজন মারা যাওয়ায় এবং দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযোগ পত্রে উল্লিখিত আসামিরা হলেন, চায়ের চুমুক কফিশপের স্বত্ত্বাধিকারী আনোয়ারুল হক, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্ত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার মুন্সি হামিমুল আলম বিপুল, কাচ্চি ভাই, খানাজ এবং তাওয়াজ রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী মো. সোহেল সিরাজ, চায়ের চুমুক কফিশপের স্পেস মালিক ইকবাল হোসেন কাউসার, কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার জেইন উদ্দিন জিসান, জেস্টি রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী মোহর আলী পলাশ ও মো. ফরহাদ নাসিম আলীম, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মতিন, ৬ষ্ঠ তলার ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম খাঁন, মেজবানিখানা রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী লতিফুর নেহার, খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও অঞ্জন কুমার সাহা, অ্যামব্রোশিয়া রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী মো. মুসফিকুর রহমান, পিৎজাইন রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী জগলুল হাসান, স্ট্রিট ওভেন রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী আশিকুর রহমান ও হোসাইন মোহাম্মদ তারেক, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী রাসেল আহম্মেদ, মো. সাদরিল আহম্মেদ শুভ, আদিব আলম, রাফি উজ-জাহেদ ও শাহ ফয়সাল নাবিদ।

অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে সরকারি বিধি-নিষেধ অমান্য করেন। তারা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের বৈধ অনুমোদন না নিয়ে নিয়ম-নীতি না মেনে অবৈধভাবে হোটেল ব্যবসা পরিচালনাসহ হোটেলে গ্যাস সিলিন্ডার ও ইলেকট্রিক ওভেন ব্যবহার করেন। যে কারণে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পৌনে ১০টায় অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জন লোক নিহত হয়। এর মধ্যে ৩ জন সম্পূর্ণরূপে আগুনে পুড়ে মারা যান।

এদিকে রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কাচ্চি ভাই-এর অফিসিয়াল পোস্টে জানানো হয়, ২০২৪ সালের বেইলি রোডের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড শুধু একটি ঘটনা নয়, এটি এক গভীর বেদনাময় স্মৃতি; যেখানে ৪৬ জন প্রাণ হারান। আগুনের সূত্রপাত নিচতলার ‘চায়ের চুমুক’ রেস্টুরেন্ট থেকে হয়ে দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

সম্প্রতি ছড়ানো “মেইন গেট লক” সংক্রান্ত তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং আগুনের সময় ‘কাচ্চি ভাই’ ফ্লোরের সামনে ও পেছনের গেট খুলে দিয়ে বহু মানুষকে নিরাপদে বের হতে সহায়তা করা হয়, যেখানে কর্মচারীরা জীবন ঝুঁকিতে উদ্ধার কাজে অংশ নেন।

২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে  ৪৬ জনের মৃত্যু হয়। ১১ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। আর জীবিত উদ্ধার করা হয় ৭৫ জনকে।

ঘটনার পরদিন ১ মার্চ রমনা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। মামলায় অবহেলা, তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ, ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে ব্যবসা পরিচালনা এবং এর ফলে প্রাণহানি ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *