গাইবান্ধায় বিয়ের অনুষ্ঠানে খাবার টেবিলে মাংস কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছায়দার আলী (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. গোলজার রহমান (৪৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৩।

গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​র‍্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২২ জুন রাত ২টার দিকে একটি বিয়ে বাড়ির খাবার অনুষ্ঠানে মাংস কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এ সময় মনোয়ারা বেগম নামে এক নারী ভিকটিম ছায়দার আলীর মুখে মাংস-ভাতসহ প্লেট ছুড়ে মারেন। ছায়দার আলী এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে গোলজার রহমানসহ ১৫-২০ জন সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠি, লোহার রড ও রান্নার লাকড়ি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ছায়দার আলীকে প্রথমে গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ জুন বিকেলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে গাইবান্ধা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে র‍্যাব-১৩ ছায়দার আলী হত্যার আসামিদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩, সিপিসি-৩, গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি দল অভিযান চালিয়ে উত্তর ঘাগোয়া এলাকার মৃত আব্দুল সামাদের ছেলে ও মামলার ২ নম্বর আসামি গোলজার রহমানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। র‍্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বাকি আসামিদের ধরতেও আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এলাকাবাসীর দাবি, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রত্যেকের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *