অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর চাঁদকে কেন্দ্র করে মানুষের মহাকাশ অভিযানে নতুন অধ্যায় সূচিত করেছে নাসা’র আর্টেমিস–২। সফলভাবে উৎক্ষেপণের পর মহাকাশযানটি বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করছে।

সংবাসমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

মহাকাশ সংস্থাটি জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের পর ক্রুরা নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং দারুণ উৎফুল্ল অবস্থায় রয়েছে। উৎক্ষেপণের পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

মিশন পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহাকাশযানটি আগামী ২৪ ঘণ্টা পৃথিবীর কক্ষপথে থেকে বিভিন্ন সিস্টেম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে এরপরই চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রার অনুমোদন দেওয়া হবে।

উৎক্ষেপণের কিছুক্ষণ পর মহাকাশচারী রিড ওয়াইজম্যান বলেন, দারুণ দৃশ্য! আমরা অসাধারণ চাঁদের উদয় দেখছি। বিজ্ঞান সম্পাদকরা জানিয়েছেন, উৎক্ষেপণের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত চমকপ্রদ এবং রকেটের শক্তি শরীর জুড়ে অনুভূত হচ্ছিল।

১০ দিনের এই মিশনে ক্রুরা চাঁদে অবতরণ করবে না, তবে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবে। একই সঙ্গে তারা পৃথিবী থেকে মানবজাতির ইতিহাসে সবচেয়ে দূরবর্তী অবস্থানে পৌঁছাবে।

মহাকাশযানে প্রযুক্তিগত কিছু জটিলতা

এদিকে, মিশনের শুরুতেই কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে ক্রুরা। ওরিয়ন মহাকাশযান-এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে (টয়লেট ও প্রসেসিং ইউনিট) কিছু অস্বাভাবিক সেন্সর রিডিং ধরা পড়েছে। প্রকৌশলীরা মহাকাশচারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে অতিরিক্ত পরীক্ষা চালাচ্ছেন এবং সিস্টেম পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা করছেন।

তবে তাৎক্ষণিক কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে নাসা। বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় বিষয়টি মূলত আরাম ও দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সমস্যা বাড়লে মিশন সংক্ষিপ্ত করার কথাও বিবেচনায় রয়েছে।

এছাড়া পানির ট্যাংকের একটি ভালভ বন্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা উৎক্ষেপণের সময়ের ঝাঁকুনিতে সরে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া পূর্ববর্তী আর্টেমিসI মিশনের মতো একটি ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক ত্রুটিও দেখা গেছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠিক হয়ে গেছে।

পরীক্ষামূলক মিশনে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম

নাসা জানিয়েছে, এসব সমস্যা মিশনের জন্য হুমকি নয়, তবে এগুলো প্রমাণ করে আর্টেমিস-২ মূলত একটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন।

মিশনের অংশ হিসেবে মহাকাশচারীরা চাঁদের পৃষ্ঠ তিন ঘণ্টা ধরে বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানিয়েছেন মিশন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কোচ।

এর পাশাপাশি তারা কক্ষপথে অবস্থান করে ওরিয়ন মহাকাশযান-এর নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা করবেন, নিজ হাতে মহাকাশযান চালিয়ে ভবিষ্যৎ চাঁদে অবতরণের প্রস্তুতি নেবেন।

পরবর্তীতে তারা চাঁদেরও কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে গিয়ে জীবনধারণ, প্রপালশন, শক্তি এবং ন্যাভিগেশন সিস্টেম পরীক্ষা করবেন।

মিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মহাকাশচারীরা নিজেদের ওপর চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা চালাবেন এবং গভীর মহাকাশ থেকে বিভিন্ন তথ্য ও ছবি পৃথিবীতে পাঠাবেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *