পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের প্রশাসনের শীর্ষস্তরে বড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল নন্দিনী চক্রবর্তীকে। একই সঙ্গে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও।

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোট প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও প্রশাসনিক কাজে তাঁরা যুক্ত থাকতে পারবেন না। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।

নন্দিনী চক্রবর্তীর পরিবর্তে রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে দায়িত্বে আনা হয়েছে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রসচিব পদে জগদীশপ্রসাদ মীনার পরিবর্তে নিযুক্ত করা হয়েছে আইএএস আধিকারিক সংঘমিত্রা ঘোষকে। নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, সোমবার দুপুর ৩টার মধ্যেই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে তাঁদের।

রবিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।

ভোট ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়েছে। এই সময় নির্বাচন কমিশনের হাতে প্রশাসনিক দিক থেকে বিশেষ ক্ষমতা থাকে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের আমলা, আধিকারিক বা পুলিশকর্তাদের বদলির নির্দেশ দিতে পারে কমিশন। অতীতেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পুলিশ সুপার, এমনকি কলকাতার পুলিশ কমিশনার পর্যন্ত বদলির নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের নির্দেশ মানা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। একই বছর সিআইডি-র অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদে থাকা রাজীব কুমারকেও দায়িত্ব থেকে সরানোর নির্দেশ দেয় কমিশন।

নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক। তিনি এর আগে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা ও অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতরের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সেচ দফতরও দেখেছেন।

অন্যদিকে নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ ১৯৯৭ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস আধিকারিক। এত দিন তিনি নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নারী ও শিশু কল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং একাধিক সামাজিক প্রকল্পের প্রশাসনিক দায়িত্ব ছিল তাঁর অধীনে।

এদিকে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন হবে দুই দফায়। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফায় ১৫২টি এবং দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগণনা হবে আগামী ৪ মে।

পশ্চিমবঙ্গে এত কম দফায় ভোটের নজির সাম্প্রতিক অতীতে খুব একটা নেই। গত কয়েকটি বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে সাধারণত ছয় থেকে সাত দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল মোট আট দফায়। ফলে এ বার মাত্র দুই দফায় ভোটের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *