জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিঞ্চালের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ভারতীয় ষড়যন্ত্রে আমাদের বাংলাদেশের মুসলমানদের বছরের পর বছর জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা এর বিরোধিতা করেছে, তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং সেই সিরিয়ালে আমাদের ভাই হাদি পড়েছে। আমাদেরকেও টার্গেট করেছে। আমারা মারা গেলে কি হবে? এরকম হাসনাত প্রতিটি গ্রামে গ্রামে দাঁড়িয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে নতুনদের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন আসে।
বুধবার বিকালে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের ফুলতলী গ্রামে এক পথসভায় বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন আওয়ামী লীগের সময় ভারতের সাথে সম্পর্ক ছিলো স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক। ভারতীয় হাই কমিশনার এই খুনি হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য শুধু ধমক না লাথি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে বের করে দেওয়া দরকার ছিলো। আওয়ামী লীগের অন্তত ৩০ হাজার সন্ত্রাসী পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া ভারতে আশ্রয় দিয়ে লালন পালন করছে। ভারত আমাদের দেশের সন্ত্রাসীদের লালন পালন করবে আর আমরা তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক করব এত ঠেকা লাগেনি।
ওপরে হচ্ছে আল্লাহ আর নিচে আপনারা। আপনারা যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবেন, যার যেই দল মন চায় সেই দলই করবেন, কিন্তু আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন সবসময় আপনাদের পাশে থাকতে পারি। তবে বিবেককে প্রশ্ন করে আপনারা ভোট দিবেন। দিন শেষে নির্বাচনী ফলাফল আপনার সাথে আমার সম্পর্ক নির্ধারণ করবে না। নির্বাচনী ফলাফল যাই হোক না কেন আপনাদের সাথে আমার সেই সম্পর্ক সবসময় থাকবে।
সীমান্তে আমাদের দেখলে গুলি করবেন, আমরাও বসে থাকব না। এখন থেকে সীমান্তে ভারতীয়রা গুলি করলে আমরা গুলি করতে না পারলেও ঢিলতো মারতে পারব। আর এখন ভারতের সাথে সম্পর্ক হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে।
হাসনাত আবদুল্লাহর আরও বলেন, ভারত আমাদের দেশের সন্ত্রাসগুলোকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়, অর্থ ও ট্রেনিং দিয়ে বাংলাদেশে ছেড়ে দেয়। আমাদের দেশে এসে তারা একটার পর একটা অপরাধ করছে। এখন আমরা যদি তাদের বলি তোমরা এসব বন্ধ না করলে আমরাও তোমাদের দেশের সন্ত্রাসীদের অর্থ ও ট্রেনিং দিব, তাহলে কি আমাদের অপরাধ হবে। তাদেরকে বারবার বলা হয়েছে কিন্তু তারা এসব বন্ধ করেনি।
এদিকে আমাদের দেশে ভারতীয় নাটক সিনেমার মাধ্যমে সংস্কৃতি প্রবেশ করিয়ে আমাদের বুঝাচ্ছে আমরা যাতে ভারতের ওপর নির্ভরশীল থাকি। কিন্তু এখন সময় এসেছে আমাদের আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। আমাদের পূর্বের প্রজন্ম লড়াই করবে না, আমাদের তরুণদের করতে হবে।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরো বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের সততার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই জেনারেশন দুর্নীতি করে না, ঘুষ খায় না, অন্যায়কে অন্যায় বলে। ভবিষ্যতে তাই দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না।’
জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নেতা সব সময় জনগণের প্রতিফলন। জনগণ সৎ হলে নেতাও সৎ হবে। জনগণ দুর্নীতিগ্রস্ত হলে নেতাও দুর্নীতিগ্রস্ত হবে। একজন সচেতন মানুষ পুরো সমাজকে পরিবর্তন করতে পারে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গির আলম, এনসিপি নেতা মো. শামীম ও কাজী নাসিরসহ আরও অনেকে।
