দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় কেরানীগঞ্জের আগানাগরে জাবালে নূর টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রনে নিলেও ভবন থেকে পুরোপুরি আগুন নির্বপানে আরো সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লে. কর্নেল মোহা. তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, ৭টা বিল্ডিং একসাথে করে একটি ভবন এখানে, পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না থাকায় এবং আন্ডার গ্রাউন্ড থেকে তিন তলা পর্যন্ত জুট এবং গার্মেন্টেসর কাপড়ের বস্তা থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রনে সময় লাগছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আগামী কালকে দিন লেগে যাবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
ভবনের বাসিন্দা মো. সাইদ জানান, ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে আমরা চিল্লা চিল্লির আওয়াজ শুনি যে নিচ তলায় আগুন লেগেছে। তাড়াহুড়া করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বের হই কোনমতে রুমটা তালা মেরে। আর ১০ থেকে ১৫ মিনিট দেরি হলে আমার পুরো পরিবারের কেউই বের হতে পারতাম না। বেজমেন্ট একতলা ও দুই তলায় মুলত জুট এবং গার্মেন্টস কাপড়ের দোকান। এ কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
ভোর ৫টার দিকে জাবালে নূর টাওয়ারে আগুন লাগার খবর পেয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। ফায়ার সার্ভিস খবর পাওয়ার সাথে সাথে একে একে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। সকাল থেকে ৪৫ জনকে বিভিন্ন সিঁড়ি ব্যবহার করে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
আগুনে হতাহতের কোন ঘটনা না ঘটলেও আগুন নেভাতে গিয়ে ২ জন সেচ্ছাসেবী কিছুটা আহত হয়। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেজমেন্টে জুটের দোকান হওয়ায় এবং দোকানগুলো তালা মারা থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। এছাড়া পুরো ভবনটি কোন বিল্ডিং কোড না মেনে, কোনও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না করেই বিল্ডিংটা করেছে। এ কারণে এতো সময় লাগছে।
ভবনের নিচ তলার সাত্তার নামে এক ব্যবসায়ী জানান, দুই দিন আগে আমার ২০ লাখ টাকার মাল এসেছে শীতের পোষাকের কাপড়। সব পুড়ে আঙ্গার হয়ে গেছে, আমি নিঃশ্ব হয়ে গেলাম। আমার মতো অনেকেরই শীতের কাপড় এসেছে, সবারই একই অবস্থা।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাষনের পক্ষ থেকে কেরানীগঞ্জ উপজেলা ইউএনও উমর ফারুক জানান, ভবনগুলোর অনুমোদন আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিল্ডিং নির্মাণে কোনও কোড মানা হয়নি। গ্যারেজের জায়গায় গোডাউন করা হয়েছে, আইনের ব্যত্যয় হয়েছে তা প্রমাণিত। তদন্ত কমিটির সুপারিশে ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
