
আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত অধিকাংশ সংবাদপত্রে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য নিয়ে খবর ছাপানো হয়েছে। এছাড়া, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়েও প্রতিবেদন রয়েছে বিভিন্ন সংবাদপত্রে।
বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যদের একাধিক ছবি ও ভিডিও পোস্ট করা আওয়ামী-ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা আফসানা বিলকিসকে মাদারীপুরের ডিসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
উপসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েই বঙ্গবন্ধুর মাজারে ফুল দিয়ে শপথ নেওয়া নড়াইলের ডিসি শারমিন আক্তার জাহানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডিসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
শুধু আজাদ জাহান, আফসানা বিলকিস কিংবা শারমিন আক্তার জাহানই নন, অনুসন্ধান বলছে—নির্বাচনকালীন মাঠ প্রশাসনের দায়িত্ব পেয়েছেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী অন্তত ১০ কর্মকর্তা।
পাশাপাশি মাঠ প্রশাসনে অভিজ্ঞতা না থাকা অন্তত তিন কর্মকর্তাকে ডিসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন নির্বাচনকালীন মাঠ প্রশাসনে বড় ঝুঁকির শঙ্কা রয়েছে, তেমনি যোগ্য ও বঞ্চিত কর্মকর্তাদের বঞ্চনার ভার আরো বাড়ছে। গত ৮ ও ৯ নভেম্বর দুটি আলাদা প্রজ্ঞাপনে এসব ডিসিকে পদায়ন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আওয়ামী-ঘনিষ্ঠ ও সুবিধাভোগীরা ডিসির দায়িত্ব পেলে জনগণের আস্থা নষ্ট হবে এবং প্রশাসন বিভক্ত হয়ে পড়বে।

সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট নিয়ে দলগুলোকে এক সপ্তাহের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানাতে সরকার আহ্বান জানালেও কোনো সাড়া মেলেনি। এ অবস্থায় সরকার নিজেই আদেশ জারির চেষ্টা করছে।
কিন্তু আদেশে দলগুলো সন্তুষ্ট হয় কিনা, না হলে কি প্রতিক্রিয়া হতে পারে এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকারের ভেতরে আলোচনা চলছে। আগামীকাল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
গতকাল আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, তিন চারদিনের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হবে। সরকার সব দলের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করছে বলেও তিনি জানান।
ওদিকে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সনদের বাইরের কোনো বিষয় স্বাক্ষরকারী দল মানতে বাধ্য না। গণভোট বিষয়ে দলগুলোর বিভেদ আরও বাড়ছে। বিএনপি নির্বাচনের আগে গণভোট চায় না।
অন্যদিকে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ ৮টি দল নির্বাচনের আগে গণভোট এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিসহ ৫ দাবিতে যৌথ কর্মসূচি পালন করেছে।

‘গণভোটে ৪টির বেশি প্রশ্ন রাখার চিন্তা সরকারের’ প্রথম আলোর শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গণভোটে চারটির বেশি প্রশ্ন রাখার চিন্তা করছে অন্তর্বর্তী সরকার।
সে ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে বিএনপি-জামায়াতসহ বেশির ভাগ দল একমত, সেগুলো নিয়ে একটি প্রশ্ন হবে।
আর সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাসহ যেসব মৌলিক প্রস্তাবে বড় দল বিশেষ করে বিএনপির ভিন্নমত আছে, সেগুলো নিয়ে আলাদা কয়েকটি প্রশ্ন থাকবে।
সব মিলিয়ে গণভোটে চার-পাঁচটি প্রশ্ন রাখা হতে পারে। সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
আর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোট করার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সরকার আশা করছে, এভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দলগুলো বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী তা মেনে নেবে।

‘রাজনৈতিক দলের সাথে কাল থেকে সংলাপে বসছে ইসি‘ নয়াদিগন্তের শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এটি হবে বর্তমান ইসির দ্বিতীয় রাজনৈতিক সংলাপের আয়োজন।
এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর প্রথম সংলাপ করে তারা। সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন নিয়ে দলগুলোর সাথে সংলাপে আলোচনা হবে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে এই সংলাপ শুরু হচ্ছে।
রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে গতকাল সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব সংলাপের এই তথ্য জানান।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হবে। ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করবে ইসি।
ইতিমধ্যে ভোট প্রস্তুতির কাজ শেষ করে এনেছে। অংশীজনের মধ্যে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, নারী নেত্রী, গণমাধ্যমসহ নানা শ্রেণী-পেশার সাথে সংলাপ করেছে।

‘ফের আতঙ্ক আগুন সন্ত্রাস’ যুগান্তরের শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, রাজনীতির মাঠে আবারও ফিরে এসেছে আগুন সন্ত্রাসের ভয়াবহতা। রাজধানী ঢাকায় আরও পাঁচটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) তদন্ত সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চত্বরে নিক্ষেপ করা হয়েছে ককটেল।
ময়মনসিংহে বাসে আগুনে মৃত্যু হয়েছে ঘুমন্ত চালকের। আহত হন আরও দুজন। আগেরদিনও ককটেল নিক্ষেপ করা হয় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে, তিনটি বাসে করা হয় অগ্নিসংযোগ।
এসব ঘটনায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। মানুষ এখন গণপরিবহণে উঠতে ভয় পাচ্ছেন।
এর সঙ্গে একের পর এক খুন উদ্বেগ বাড়িয়েছে নাগরিকদের মনে।
সোমবার রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার পর মঙ্গলবার গুলশানে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মোহাম্মদপুরে উদ্ধার করা হয়েছে ছাত্রদল নেতার লাশ।
এর ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অপপ্রচারে মানুষ যেন ফিরে গেছে ২০১৪-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক ভয়াবহ দিনগুলোতে।

ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের শিরোনাম ‘Surveillance at entries to Dhaka ramped up’ অর্থাৎ, ঢাকায় প্রবেশপথে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
খবরে বলা হচ্ছে, আগামীকাল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির আগে যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে সরকার ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবস্থানে রাখা হয়েছে।
রাজধানীতে অস্থিতিশীলতা তৈরি বা অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স দেখানো হবে।
গতকাল ভোরে ঢাকা এবং এর প্রবেশপথে নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। আগামীকাল রাজধানীর প্রবেশপথগুলোর কোনও সমাবেশ বা বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে না।
গত রাতে পরিদর্শনকালে, গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, আবদুল্লাহপুর এবং টঙ্গী সহ প্রধান প্রবেশপথগুলিতে পুলিশ টহল দেখা গেছে, যেখানে আগত যানবাহন তল্লাশির জন্য অতিরিক্ত চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে।

পরিচালন ব্যয়ের একটি বড় অংশ যায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, অনবোর্ড পরিষেবা, ইঞ্জিন-কোচ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং যন্ত্রাংশ সংগ্রহের পেছনে।
‘বিশেষ কার্যক্রম’ খাতের এ পরিচালন ব্যয়ের প্রধান উদ্দেশ্য যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন। যদিও সংস্থাটির যাত্রীসেবার মান নিয়ে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।
ট্রেনে-স্টেশনে অপরিচ্ছন্নতা, সময়সূচিতে হেরফের, টিকিট কালোবাজারি, আসনবিহীন ও টিকিটবিহীন যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, খাবারের বাড়তি দামসহ ব্যবস্থাপনাগত বিভিন্ন ইস্যু এবং চলন্ত অবস্থায় ইঞ্জিন-বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, ঘন ঘন লাইনচ্যুতির মতো কারিগরি বিষয়গুলোও যাত্রী ভোগান্তির কারণ হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও রেলের ‘নাজুক যাত্রীসেবায়’ তেমন কোনো উন্নতি হয়নি বলে মনে করেন অনেক নিয়মিত রেলযাত্রী। উল্টো ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেলের আয় কমেছে।
অবশ্য আয় কমে যাওয়ার পেছনে গত বছর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন রেলের কর্মকর্তারা।

নিউ এইজের শিরোনাম ‘SAGAR-RUNI, TONU, TAQI, MUNIA MURDER: Families still cry for justice’. অর্থাৎ সাগর-রুনি, তনু, তাকি, মুনিয়া হত্যা: ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় এখনো কাঁদছে পরিবারগুলো।
খবরে বলা হচ্ছে, সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি, কুমিল্লার সাংস্কৃতিক কর্মী সোহাগী জাহান তনু, নারায়ণগঞ্জের ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ তাকি এবং কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়া – সবার পরিবার আজও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।
বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের হত্যা মামলা এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
সব মামলায় একটি মিল দেখা যায়—বেশি আগ্রহ, শুরুতে কর্তৃপক্ষের আশ্বাস, তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা বা পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও বারবার ‘ক্লিন-চিট’, এবং শেষ পর্যন্ত দোষীদের কোনো জবাবদিহিতা না থাকা।
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনিকে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় তাদের ভাড়া বাসায় হত্যা করা হয়। ত্বকি ২০১৩ সালের মার্চে নারায়ণগঞ্জে খুন হয়।
তনুকে ২০১৬ সালের মার্চে কুমিল্লায় ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। আর মোসারাত জাহান মুনিয়াকে ২০২১ সালের এপ্রিলে গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এই ঘটনাগুলো দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের জন্ম দেয়।

