দুই বছর ধরে ইসরায়েলি আগ্রাসনে ধ্বংস হয়েছে গাজার অধিকাংশ স্কুল। বহু ফিলিস্তিনি শিশু হারিয়েছে তাদের শৈশব। তবুও ধ্বংসস্তূপের ভেতরেই বই হাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরছে গাজার শিশুরা। ভাঙা টেবিল, ক্ষতিগ্রস্ত দেয়াল আর গোলাবারুদের গন্ধ মিশে থাকা ক্লাসরুমে নতুন করে শুরু হয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। তবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও আগের সেই চেনা পরিবেশ নেই। ক্লাসরুমের দেয়ালে এখনো ইসরায়েলি গোলার ক্ষতচিহ্ন, টেবিল-চেয়ার ভাঙাচোরা। তাই মেঝেতে বসেই চলছে পড়াশোনা। এমন কিছু স্কুল পরিদর্শন করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিনিধিরা।

আবারও স্কুলে আসতে পেরে ভালো লাগার কথা রয়টার্সকে জানায় এক শিশু। ফিলিস্তিনি শিশুটি বলে, আমি দুই বছর স্কুলে যেতে পারিনি। এখন ফিরে আসতে পেরে ভালো লাগছে। আমি পড়তে ভালোবাসি। কিন্তু বই আর কলম নেই। যুদ্ধ আমাদের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছিল। আরেক শিশু জানায়, যুদ্ধের আগে আমরা সুখী ছিলাম। সকাল ৬টায় স্কুলে যেতাম, অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়াতাম, শিক্ষকরা আমাদের সাহায্য করতেন। খেলাধুলা করতাম। যুদ্ধ শুরু হলে সবকিছু থেমে যায়। গাজার শিশুদের পড়াশোনায় আবার নিয়মিত কাজ করছে জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ। ইউএনআরডব্লিউএ মুখপাত্র ইনাস হামদান বলেন, ‘গাজার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আমরা অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র খুলেছি। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬২ হাজার শিক্ষার্থী এসব কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। ইউএনআরডব্লিউএর হিসাবে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৯১ শতাংশ স্কুল ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রায় তিন লাখ শিক্ষার্থীকে অনলাইনে পাঠদান করা হচ্ছে। যেখানে কাজ করছেন আট হাজার শিক্ষক। যুদ্ধ-দুর্ভোগের মধ্যেও গাজার শিশুদের শিক্ষার অধিকার আছে। সেই অধিকার দিতে কাজ করে যাওয়ার কথা জানায় ইউএনআরডব্লিউএ।

এদিকে, গাজায় যুদ্ধবিরতি চলমান

থাকলেও ত্রাণ প্রবেশে দেওয়া হচ্ছে বাধা। এতে করে গাজায় তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে এবং এর ফলে ক্ষুধা ও দুর্ভোগে কাতর হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। মূলত সীমিত সীমান্ত খোলা থাকায় ত্রাণ সরবরাহে বড় বাধা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বৈশ্বিক এই সংস্থাটি এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফিলিস্তিনিদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসরায়েলের অব্যাহত বিধিনিষেধের ফলে সহায়তা সরবরাহে বড় বাধা তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। সংস্থাটির মুখপাত্র আবির ইতেফা বলেন, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গত মাসে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু সীমিতভাবে সীমান্ত খোলা থাকার কারণে ত্রাণের পরিমাণ এখনো অত্যন্ত কম। ইতেফা বলেন, আমাদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দরকার। দ্রুতগতিতে ত্রাণ সরানো জরুরি। আমরা সময়ের সঙ্গে দৌড়াচ্ছি। শীত চলে আসছে, অথচ মানুষ এখনো ক্ষুধায় ভুগছেন। ডব্লিউএফপি জানায়, তারা গাজা জুড়ে ৪৪টি স্থানে খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে খাদ্যসহায়তা দিয়েছে।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *