অস্ট্রেলিয়া: ৩৩৮ (লিচফিল্ড ১১৯, পেরি ৭৭, গার্ডনার ৬৩,  শ্রী চরণী ৪৯/২)

ভারত: ৩৪১/৫ (জেমাইমা অপরাজিত ১২৭, হরমনপ্রীত ৮৯, কিম গার্থ ৪৬/২)

ফলাফল: ভারত ৫ উইকেটে জয়ী।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সূর্য নাকি ইঙ্গিত দেয় দিনটা কেমন যাবে। বিখ্যাত ইংরেজি প্রবাদবাক্য তেমনই বলে। কিন্তু সেটা একেবারেই সত্যি হল না বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে। রানের পাহাড় গড়ে অস্ট্রেলিয়া ভেবেছিল মার দিয়া কেল্লা! কিন্তু স্মৃতিরা বোধহয় ফিসফিস করে বলেছিলেন, ‘পিকচার আভি বাকি হ্যায় মেরে দোস্ত।’ তাই হল। বিরাট রানের পাহাড় ডিঙিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট মুঠোয় পেলেন জেমাইমা-হরমনপ্রীতরা। রান তাড়া করায় এটাই নতুন বিশ্বরেকর্ড। শেষবার ২০১৭ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। ভারতের কাছেই। তারপর আজ। এই নিয়ে তৃতীয় বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের মেয়েরা।

এদিন টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। যদিও শুরুতেই তাদের ঝটকা দেন ক্রান্তি গৌড়। তিনি ৫ রানে ফেরান অজি অধিনায়ক অ্যালিসা হিলিকে। কিন্তু এরপর যেভাবে সংহারক রূপ ধারণ করেন ফোবি লিচফিল্ড এবং এলিসি পেরি, তাতে অজি দলের বড় রান করা ছিল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। লিচফিল্ড করেন ৯৩ বলে ১১৯। তাঁর ইনিংসে ১৭টি চার, ৩টি ছয়। তাঁকে অমনজ্যোত কৌর ফেরানোর সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ১৫৫ রানের জুটি ভাঙে। পেরি আউট হন ৭৭ রানে। রাধা যাদবের বলে বোল্ড হন তিনি। যদিও এরপর ম্যাচে ফেরে ভারত। একটা সময় অজিদের স্কোর হয়ে যায় ৬ উইকেটে ২৬৫। কিন্তু অ্যাশলি গার্ডনার ও কিম গার্থ ফের স্কোরবোর্ডকে দ্রুতগামী করে তোলেন। ৪৬ ওভারে অস্ট্রেলিয়া ৩০০ পেরোয় এই দুই ব্যাটারের সৌজন্যে। দুই ব্যাটারের, বিশেষ করে গার্ডনারের ধোলাইয়ে অস্ট্রেলিয়া সাড়ে তিনশোর কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ৬৩ করে রান আউট হন তিনি। ভারতের হয়ে শ্রী চরণী পান ২টি উইকেট। ক্রান্তি গৌড়, রাধা যাদব এবং আমনজ্যোত ভাগ করে নেন একটি করে উইকেট। শেষ ওভারে দু’টি উইকেট দীপ্তি শর্মার। বাকি তিনটি রান আউট। জেতার জন্য হরমনপ্রীতদের সামনে লক্ষ্য ছিল ৩৩৯ রান।

এত বড় টার্গেটের লক্ষ্যে নামলে ওপেনিং জুটির সফল হওয়াটা খুব জরুরি হয়ে ওঠে। কিন্তু ভারত এদিন শুরুতেই শেফালিকে হারায়। মাত্র ১০ রান করেন তিনি। স্মৃতি মন্ধানা ও জেমাইমা রদ্রিগেজ দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। মোটামুটি ৬ রান ওভার পিছু রেখে স্কোরবোর্ড সচল রাখছিলেন তাঁরা। কিন্তু আচমকাই কিম গার্থের বলে আউট মন্ধানাও। তিনি ২৪ রানে ফেরেন। ভারত তখন ৫৯/২। দশম ওভার চলছে।

এই পরিস্থিতিতে দুরন্ত জুটি বাঁধলেন জেমাইমা রদ্রিগেজ ও অধিনায়ক হরমনপ্রীত কউর। পরবর্তী ওভারগুলিতে তাঁরা কার্যত দুরমুশ করলেন অজি বোলিং। একটা সময় মনে হচ্ছিল এত বড় রানের সামনে ভেঙে পড়বে ভারতীয় ব্যাটিং। কিন্তু তা হয়নি এই জুটির জন্য। কিন্তু তরতর করে রান ওঠা সত্ত্বেও বড় শট মারার খেসারত দিতে হয় হরমনপ্রীতকে। সাদারল্যান্ডের বলে আউট হয়ে কার্যতই শতরান মাঠে ফেলে এলেন তিনি (৮৯, ১০x৪, ২x৬)। বিশ্বকাপের কোনও নকআউট ম্যাচে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ জুটি। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ।

দীপ্তি শর্মা চমৎকার শুরু করলেন। কিন্তু ১৭ বলে ২৪ রান করে রানআউট হন। অকারণ রান নিতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে উইকেটটা উপহার দেয় টিম ইন্ডিয়া। যদিও জেমাইমা রদ্রিগেজ তাঁর চওড়া ব্যাটে দলকে এগিয়ে নিয়ে এলেন। তাঁর ঝকঝকে শতরানটি অজিদের কখনও ম্যাচের উপরে জাঁকিয়ে বসতে দিচ্ছিল না। তবে ৮২ রানের মাথায় তিনি বেঁচে যান ক্যাচ তুলে। অজি অধিনায়কই ক্যাচটা ফেলেন। অ্যালিসা হিলি আজ পরিষ্কার বুঝে গেলেন ‘ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস’। 

কিন্তু বাদবাকি সময় আর কোনও ভুল করেননি জেমাইমা। রিচা ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চললেন জয়ের দিকে। ৩১০ রানের মাথায় রিচাকে ফিরতে হল (২৬)। কিন্তু জেমাইমা অবিচল। আমনজ্যোতের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে নিয়ে গেলেন বিশ্বকাপ ফাইনালে। নিজে অপরাজিত রইলেন ১২৭ রানে (১৪x৪)। ম্যাচের সেরা তিনি ছাড়া আর কেই বা হতেন! ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে খেলবে উওমেন ইন ব্লু-রা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *