ছবির উৎস, Bloomberg via Getty Images
Published
পড়ার সময়: ৩ মিনিট
প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়াকে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গৃহবন্দি করা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে উয়েনো ব্যাংকের পতনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকটের জেরে শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর কয়েক মিনিট আগে নিজ দলের সদস্যসহ আইন প্রণেতারা তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেন।
তবে বৃহস্পতিবার তিনি পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পদত্যাগ প্রস্তাব গ্রহণ না করে তাকে অভিশংসন ও অসদাচরণের অভিযোগে বিচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর ফলে সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে পাওয়া আজীবন সিনেট সদস্যপদ এবং দায়মুক্তির সুবিধাও হারাবেন তিনি।
গত বছর পর্যন্ত ব্যাংকটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছিল পেনিয়ার হাতে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
ডিজিটাল ব্যাংকটির পতন এবং প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেটি জব্দ করার ঘটনায় দেশটির অর্ধেকেরও বেশি মানুষ তাদের সঞ্চয়ের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ হারিয়েছেন।
ফলে আনুমানিক ৩০ লাখ আমানতকারী তাদের সঞ্চয় ও পেনশনের অর্থ তুলতে পারছেন না। এ ঘটনায় ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে রাজধানী আসুনসিওনে।
ছবির উৎস, AFP via Getty Images
অভিশংসনের অভিযোগে বলা হয়েছে, পেনিয়া স্বার্থের সংঘাত তৈরি করেছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি কার্যক্রমে কারসাজি করেছেন, পেনশন তহবিলের অর্থ অন্য খাতে সরিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঘিরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টায় অংশ নিয়েছেন।
বিশ্বাসভঙ্গ, প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা আদায় এবং তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শনিবার পেনিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলি সিলভিয়া মার্গারিটা গনজালেজ ভেস্টার।
পেনিয়াকে অভিশংসনের প্রস্তাবের পক্ষে সিনেটের ৪৫ সদস্যের মধ্যে ৪৪ জন ভোট দেন। একজন আইনপ্রণেতা অনুপস্থিত ছিলেন।
পরে সিনেটের প্রেসিডেন্ট বাসিলিও নুনিয়েজ বলেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে পেনিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এরপর প্যারাগুয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।
আলিয়ানা বলেন, “আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে যারা এখন কঠিন সময় পার করছেন, তাদের সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।”
২০২৮ সাল পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।
ছবির উৎস, Reuters
বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পেনিয়া দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আপনারা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা কখনোই আমার উদ্দেশ্য ছিল না”।
দেশটিতে ২০২৩ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দল কলোরাডো পার্টির হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন পেনিয়া। ওই নির্বাচনে তিনি মধ্য-বামপন্থী এক প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেছিলেন।
পেনিয়ার পর প্রেসিডেন্ট হওয়ার সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় পরবর্তী অবস্থানে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া থেকে সরে এসেছে কলোরাডো পার্টি।
ওদিকে উয়েনো ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ, যা প্যারাগুয়ের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ।
ব্যাংকটি গ্রাহকদের পেনশনসহ সরকারের বিভিন্ন তহবিলের অর্থ সংরক্ষণ করত। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ব্যাংকটির পতনের পর লাখ লাখ গ্রাহক তাদের ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থ ব্যবহারের সুযোগ হারান।
প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ডিজিটাল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি জব্দ করে। এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন সাধারণ মানুষ। তারা বিক্ষোভ করে প্রেসিডেন্ট পেনিয়ার পদত্যাগ দাবি করেন।
এদিকে প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দিয়েছে দেশটির কংগ্রেস।
