অলিম্পক কিংবা ফুটবল বিশ্বকাপের মতো বড় ইভেন্টের ক্ষেত্রে একটা ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। যার পোশাকি নাম লেগাসি ইভেন্ট। যে দেশগুলো বিশ্বকাপ কিংবা অলিম্পিক আয়োজনের জন্য বিড করে, তাদের আলাদা করে একটা প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে হয়। অর্থাৎ বিশ্বকাপের আগে তারা কীভাবে ওই লেগাসি ইভেন্টের পরিকল্পনা করছে, সেটা নিয়ে বিস্তারিতভাবে প্রেজেন্টেশন দিতে হয়।

অনেকের মনে হবে কী এই লেগাসি ইভেন্ট? সহজ কথায়, বিশ্বকাপের ঐতিহ্যকে মাঠের বাইরে আরও বেশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। খেলাটি নিয়ে উন্মাদনা আরও বাড়ানো। ক্রিকেট বিশ্বকাপে অবশ্য এর আগে লেগাসি ইভেন্টের বিশেষ চল ছিল না। তবে আসন্ন আফ্রিকা বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে লেগাসি ইভেন্ট। দুই দশক পর আবার আফ্রিকার মাটিতে বিশ্বকাপ ফিরছে। যা নিয়ে আইসিসি বিস্তর পরিকল্পনা করে রেখেছে। ফরম্যাটে অভিনবত্ব নিয়ে আসা হয়েছে। জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভাবনা তো রয়েছে। সঙ্গে যোগ হতে চলে চলেছে লেগাসি ইভেন্ট।

আরও পড়ুন:

যতই টি-টোয়েন্টির দাপাদাপি চলুক না কেন, আইসিসির সবচেয়ে প্রাইম ইভেন্ট ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সবচেয়ে লাভজনকও। এবার বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা বাড়াতে অনেক বেশি প্রমোশনাল ইভেন্ট করবে আইসিসি। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্লু-প্রিন্ট প্রায় চূড়ান্ত। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আইসিসি-র বৈঠক রয়েছে বালিতে। যেখানে থাকবেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। আইসিসি-র সেই বৈঠকেই যাবতীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়ে যাবে।

লেগাসি ইভেন্টের করার অর্থ হল- টুর্নামেন্টের যে বিশাল ঐতিহ্য, সেটা আরও বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়া। অফ্রিকার বিভিন্ন দেশে নানা অনুষ্ঠান চলবে কয়েক মাস যাবৎ। আফ্রিকা মহাদেশে যে’সব দেশে ক্রিকেটের চল একেবারেই নেই, সেখানে ক্রিকেট নিয়ে আরও বেশি করে প্রচার করা হবে। সে’দেশের সরকারের সঙ্গে আইসিসি আলোচনা করবে। স্কুলে ক্রিকেট বাধ্যতামূলক করার করার চেষ্টা করা হতে পারে। পাশাপাশি ক্রিকেটের পরিকাঠামো আরও উন্নত করার ব্যাপারে জোর দেওয়া হবে। তার জন্য মাঠ তৈরি থেকে শুরু করে ক্রিকেটীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার ভাবনাও রয়েছে। কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হতে পারে বিভিন্ন জায়গায়। প্রাক্তন ক্রিকেটারদের নিয়ে গিয়ে জুনিয়র ক্রিকেটারদের ক্লাস করানো হতে পারে। যাতে তারা আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হয়।

আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ মিলিয়ে চল্লিশ-পঞ্চাশ হাজার খুদে ক্রিকেটারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া থেকে শুরু করে বিশেষ কোচিং ক্লাস করানো, সবকিছুই থাকতে পারে ওই লেগাসি ইভেন্টে। কোচেদের আলাদা করে ট্রেনিং দেওয়া হবে। তার জন্য তিরিশ-চল্লিশ জন কোচকে নিয়ে যাওয়া হবে। গ্রাসরুট ডেভলপমেন্টে আরও জোর দেওয়া হবে। বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক মাস আগে থেকেই হয়তো শুরু হয়ে যাবে এই লেগাসি ইভেন্ট।

আসলে বিশ্বকাপের সাফল্যকে শুধু ভিউয়ারশিপ, দর্শক সংখ্যার বিচারে আটকে রাখতে চাইছে না আইসিসি। তারা চায় বিশ্বকাপের বিশেষ ছাপ রেখে যেতে। যাতে বিশ্বকাপ শেষের পরও আফ্রিকার দেশগুলোতে ক্রিকেট নিয়ে চর্চা চলে। নতুন প্রজন্ম ক্রিকেট নিয়ে আরও বেশি উৎসাহী হয়। যে সব দেশে ক্রিকেটের বিশেষ চল নেই, সেখানেও ক্রিকেট নিয়ে চর্চা বাড়ে। বিশ্বকাপের সার্থকতাই তো সেখানে। বিশ্বকাপ-উৎসব শুরু হবে। আবার তা কয়েক সপ্তাহ পর শেষও হয়ে যাবে। কিন্তু সেই উৎসবের রেশ ধরেই আফ্রিকার মাটিতে যাতে ক্রিকেট নিয়ে উন্মাদনার আরও বীজ বপন করা যায়, আইসিসি সেরকমই পরিকল্পনা করে রেখেছে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *