নয়া দিল্লি: ধরুন হাওড়া স্টেশন যন্তর মন্তর, সেখানে আজ ঢোকা নিষেধ। যাতে হাওড়ায় কেউ পৌঁছতে না পারেন, তার জন্য বালি থেকে শুরু করে বিধাননগর স্টেশন চত্বর সম্পূর্ণ ঘিরে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে। ‘যন্তর মন্তরে’ সিজেপির অভিযান রুখতে ১০ কিলোমিটার ঘিরে ফেলা হয়েছে। সেখানে মাছি গলার উপায়ও নেই।
রাজধানী আজ যেন দুর্গ। দিল্লির যন্তর মন্তরে আজ বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির। আর সেই আন্দোলন কর্মসূচি রুখতেই মরিয়া পুলিশ। ২০ হাজার পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ৩০০ ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি চলছে। ওড়ানো হচ্ছে ড্রোন। ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেটও। কী অবস্থা এখন দিল্লির?
কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
গতকালই দিল্লিগামী সমস্ত ট্রেন বাতিল করে দেওয়া হয় আজকের জন্য। ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপরই মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতও উদ্বেগ প্রকাশ করে গণপরিবহন সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ না রাখার নির্দেশ দেয়। তারপরও আজ বন্ধ ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। অন্যদিকে, দিল্লিতে আসা এবং যাওয়া মিলিয়ে বাতিল করা হয়েছে মোট ২৪৫টি ট্রেন।
৩০টি হটস্পট চিহ্নিত করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছে দিল্লি পুলিশ। ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে যন্তর মন্তর, ইন্ডিয়া গেট সংলগ্ন এলাকা। বন্ধ দিল্লির কনট প্লেস-ও। নাকাবন্দি চলছে দিল্লির গাজীপুর, চিল্লা, সিংঘু সহ একের পর এক সীমানার ঢোকা-বেরনোর পয়েন্টে।
আজকে সিজেপির কর্মসূচির জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল-কলেজ। চলবে অনলাইন ক্লাস। বন্ধ দিল্লি হাইকোর্ট-সহ নিম্ন আদালতের কাজ। সেখানে অনলাইন শুনানি হবে।
আন্দোলনকারীদের আটকাতে প্ল্য়ান-
আন্দোলনকারীদের আটকাতেও বিরাট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ১০ থেকে বাড়িয়ে ডিটেনশন সেন্টারে সংখ্যা করা হয়েছে ৩০। এছাড়াও পুলিশ স্টেশন, পুলিশ ব্যারাকেও আটক করে রাখা হবে প্রতিবাদীদের। শুধুমাত্র বিক্ষোভকারীদের আটক করার জন্য দিল্লিতে নামানো হচ্ছে ৬০০ টি বাস। উত্তর প্রদেশ এবং হরিয়ানা থেকে বাস এনেছে দিল্লি পুলিশ।
শুধু নিউ দিল্লি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে ২২ জন ডিসিপিকে দায়িত্ব দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। মোট ২৩টি সিকিউরিটি জোনে ভাগ করা হয়েছে দিল্লিকে। যন্তুর মন্তর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত বিভিন্ন রাস্তার ওপর নজরদারি এবং নাকাবন্দি করা হচ্ছে।
সিজেপির জুলাই মাসে আন্দোলনের সময় যে জায়গাগুলিতে অশান্তি হয়েছিল, এরকম ৩৭টি হটস্পট সম্পূর্ণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
