সন্ত্রাসবাদ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে পাকিস্তান এবং ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-কে কড়া বার্তা দিল ভারত। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার ষষ্ঠ কমিটির অধিবেশনে ভারতের জাতীয় বিবৃতি দিতে গিয়ে বিজেপি সাংসদ বিপ্লব দেব বলেন, “পাকিস্তান থেকে আসা সীমান্ত-পারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজের মানুষকে রক্ষা করার পূর্ণ অধিকার ভারতের রয়েছে। আর যারা সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত, তাদের তার পরিণাম ভুগতেই হবে।” ওআইসি-কে তোপ দেগে ‘অপরাধী আর ভুক্তভোগীকে এক করে দেখবেন না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ওআইসি-র সভাপতির বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে বিপ্লব বলেন, “দুঃখের বিষয়, আপনারা তথ্য আর কল্পকাহিনির মধ্যে তফাত করছেন না। সবচেয়ে বড় কথা, আপনারা ভুক্তভোগী আর অপরাধীকেও এক করে দেখছেন।” পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে থাকা সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারতের ‘লক্ষ্যভিত্তিক ও পরিমিত’ পদক্ষেপ নিয়ে ওআইসি প্রশ্ন তুলেছিল। তারই জবাবে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।

আরও পড়ুন:

বিপ্লব বলেন, ‘দুঃখের বিষয়, আপনারা তথ্য আর কল্পকাহিনির মধ্যে তফাত করছেন না। সবচেয়ে বড় কথা, আপনারা ভুক্তভোগী আর অপরাধীকেও এক করে দেখছেন।’

জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসি-র মন্তব্য প্রসঙ্গে বিপ্লবের সরাসরি বার্তা, “ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য করার আগে ওআইসি-র সভাপতির উচিত পাকিস্তানের দখলে থাকা কাশ্মীরের দিকে তাকানো। সেখানে কী হচ্ছে, সেটাও দেখা দরকার।” পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেখানে হত্যা, হিংসা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার হরণের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর মন্তব্য, “এসব চোখের সামনে ঘটছে, অথচ তা দেখেও চোখ বন্ধ করে থাকা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” সেপ্টেম্বরেও ওআইসি-র জম্মু ও কাশ্মীর সংক্রান্ত যোগাযোগ গোষ্ঠীর বিবৃতির বিরোধিতা করেছিল নয়াদিল্লি। ভারত জানিয়েছিল, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার ওআইসি-র নেই। সেই অবস্থানই রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ফের স্পষ্ট করল ভারত।

সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিপ্লব বলেন, “সন্ত্রাসবাদ ভাল বা খারাপ—এ ভাবে ভাগ করা যায় না। যে-ই করুক, যে কারণেই করুক, নিরীহ মানুষকে হত্যা কোনও ভাবেই ন্যায্য হতে পারে না।” তাঁর কথায়, একটি সন্ত্রাসবাদী হামলাও অনেক বেশি, একটি প্রাণহানিও অনেক বেশি। নতুন প্রযুক্তির অপব্যবহার, সন্ত্রাসে অর্থের জোগান এবং মৌলবাদী প্রচারের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও বলেন বিপ্লব। পাশাপাশি ১৯৯৬ সালে ভারতের প্রস্তাবিত সর্বাঙ্গীণ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস দমন সনদ (CCIT) দ্রুত চূড়ান্ত করার দাবি জানান তিনি। রাষ্ট্রসংঘে তাঁর বক্তব্যের সারকথা, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দ্বিচারিতা চলতে পারে না। যারা সন্ত্রাস করে, যারা তাদের অর্থ দেয়, যারা সংগঠিত করে এবং যারা মদত দেয়—প্রত্যেককেই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *