খবর অনলাইন ডেস্ক: এ বারের পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেলেন বেলজিয়ান-মার্কিন বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। মঙ্গলবার রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি তাঁর নাম ঘোষণা করে। মহাজাগতিক উৎস থেকে পৃথিবীতে আসা উচ্চশক্তির রহস্যময় কণা ‘কসমিক নিউট্রিনো’ শনাক্ত এবং তাদের উৎসের সন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ফের একক ভাবে কোনও বিজ্ঞানী পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেলেন।
দক্ষিণ মেরুর ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজ়ারভেটরি’-তে হালজেনের নেতৃত্বে গবেষকরা হিমবাহের গভীর বরফকে কাজে লাগিয়ে মহাজাগতিক নিউট্রিনোর গতিপথ এবং উৎস চিহ্নিত করতে সক্ষম হন। ১৯৮৮ সালেই একটি গবেষণাপত্রে হালজেন জানিয়েছিলেন, দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে মহাজাগতিক নিউট্রিনোর গতিপথের সন্ধান করা সম্ভব। তাঁর সেই ধারণার ভিত্তিতে পরবর্তী গবেষণা নতুন ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথ খুলে দেয় বলে জানিয়েছে নোবেল কমিটি।
– বিজ্ঞাপন –
নিউট্রিনোকে প্রায়ই ‘ভূতুড়ে কণা’ বলা হয়। কারণ, অন্য পদার্থের সঙ্গে তাদের মিথস্ক্রিয়া অত্যন্ত কম। ফলে কোটি কোটি আলোকবর্ষ পথ পাড়ি দিয়েও তারা প্রায় কোনও শক্তিক্ষয় ছাড়াই পৃথিবীতে পৌঁছোতে পারে। এই কারণেই নিউট্রিনোর গতিপথ অনুসরণ করে তাদের উৎপত্তিস্থল, যেমন ব্ল্যাক হোল বা সুপারনোভা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব।
নিউট্রিনো শনাক্ত করতে দক্ষিণ মেরুর প্রায় আড়াই কিলোমিটার গভীর বরফকে ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে ১.৪৫ থেকে ২.৪৫ কিলোমিটার গভীরে ৮৬টি তারের সঙ্গে বসানো হয়েছে ৫,১৬০টি অতি সংবেদনশীল আলোক সেন্সর বা ‘ডিজিটাল অপটিক্যাল মডিউল’ (ডম)। প্রায় ১ ঘন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তৈরি এই আইসকিউবই বিশ্বের বৃহত্তম নিউট্রিনো ডিটেক্টর।
অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে উচ্চশক্তির নিউট্রিনো বরফের জলের পরমাণুর সঙ্গে ধাক্কা খেলে ‘মিউয়ন’ নামের চার্জযুক্ত কণা তৈরি হয়। সেই মিউয়ন বরফের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় নীল আলোর ঝলকানি তৈরি করে, যাকে বলা হয় ‘চেরেঙ্কভ বিকিরণ’। আইসকিউবের সেন্সরগুলি সেই আলোর সংকেত ধরেই নিউট্রিনোর উপস্থিতি এবং গতিপথ শনাক্ত করে।
১৯৪৪ সালের ২৩ মার্চ বেলজিয়ামের তিয়েনে জন্ম ফ্রান্সিস হালজেনের। ৮২ বছর বয়সি এই বিজ্ঞানী বর্তমানে আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনে অধ্যাপনা করেন। নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে তিনি পাবেন ১ কোটি ২০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনার, ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা।
বিজ্ঞাপন
