ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর পাশাপাশি নতুন ভোটারের নাম তোলার ফর্ম ৬ নিয়েও বিতর্ক অব্যাহত। সোমবার কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ‘বেআইনি ও একতরফাভাবে’ ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন এনেছিলেন। কংগ্রেস সাংসদের সেই দাবি উড়িয়ে ‘ফ্যাক্ট চেক’ করল নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি, সেটিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলেও অভিহিত করেছে কমিশন।
কমিশন জানিয়েছে, বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের জন্য ২০২৫ সালের ২৪ জুন যে নির্দেশ জারি করা হয়েছিল, তা কমিশনের সর্বসম্মতক্রমেই হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে তা বহালও রাখে। এছাড়া নির্বাচন কমিশন ২০২৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তাদের ১২০ নম্বর প্রেস নোটের ১(৩) অনুচ্ছেদের কথাও উল্লেখ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে: ‘এসআইআরের জন্য ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত অতিরিক্ত ঘোষণা শীর্ষ আদালত বহাল রেখেছে।’ বলে রাখা ভালো, ফর্ম ৬-এর মাধ্যমেই নতুন ভোটারেরা ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম তুলতে পারেন। কিন্তু এবার সেই ফর্মে পরিবর্তন আনা হয়। ফর্মে ভোটারদের জানাতে হয়েছে যে, আগের এসআইআরে বাবা বা পিতামহের নাম রয়েছে কি না। এটি বাধ্যতামূলক করা হয়।
আরও পড়ুন:
Fact Check ❌The statement made in this post is misleading ✅1) The order for SIR in Bihar issued on 24 June 2025 was issued with the unanimous approval of the Commission. This order has been upheld by the Hon’ble Supreme Court of India in its judgment dated 27 May 2026 ✅2) In its Press Note No. 120 dated 26 September 2026, in Point 1(iii), ECI has stated that, “The declaration attached to Form 6 for SIR has been upheld by the Hon’ble Supreme Court.” #ECIFactCheck
— Election Commission of India (@ECISVEEP) October 5, 2026
এদিকে সোমবার ফর্ম ৬ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নের মুখে পড়েছে কমিশন। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ কোনও বদলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে যদি কোনও বদল হয়ে থাকে, তবে তা কার নির্দেশে হয়েছে? কমিশনের সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর নেওয়া হয়েছিল কি না? সে বিষয়ে জবাব তলব করা হয়েছে জ্ঞানেশ ও বাকি ২ দুই নির্বাচন কমিশনারের।
সম্প্রতি সর্বভারতীয় সংবাদপত্র ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে দাবি করা হয়, একতরফা ভাবে এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বাকি দুই কমিশনারের আপত্তিতে আমল দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, ফর্ম ৬-এর বদল নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিলেন তাঁরা। সংবাদপত্রের ওই প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করে সম্প্রতি মামলা দায়ের হয়েছিল শীর্ষ আদালতে। সোমবার এই মামলার শুনানি করে বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহনার বেঞ্চ।
তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, কোনও সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত কোনও নির্দেশ দিতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনও সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ১০০ শতাংশ ঠিকও হতে পারে, আবার আংশিক ঠিকও হতে পারে, আবার ভুলও হতে পারে। তাই এর ভিত্তিতে আদালত কোনও নির্দেশ দিতে পারে না। তবে সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, যদি দেখা যায় কোনও ক্ষেত্রে আইন মানা হয়নি, তাহলে তা বাতিল হতে পারে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, গোটা বিষয়টির সত্যাসত্য বিচার করে তবেই বড়সড় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব, তার আগে নয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
