খবর অনলাইন ডেস্ক: ভারতে পা রেখেই বুঝেছেন এ দেশে ব্রাজিলের জনপ্রিয়তা কতটা। দেশের বাইরে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় সমর্থকগোষ্ঠীগুলির একটি যে ভারতে, তা অজানা নয় মার্কুইনহোসের। তাই শনিবার যুবভারতীতে ভারতের বিরুদ্ধে নামার আগে এক দিকে যেমন জয়ের লক্ষ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন ব্রাজিলের অধিনায়ক, তেমনই ভারতীয় ফুটবলের প্রতি সম্মানও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মুখে বিশেষ ভাবে এসেছে ভারতীয় গোলকিপার গুরপ্রীত সিংহ সঁধুর নাম।

অন্য দিকে, তারকাসমৃদ্ধ ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে চাপকে পাশে সরিয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন ভারতীয় কোচ খালিদ জামিল এবং ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি।

– বিজ্ঞাপন –

সাংবাদিক সম্মেলনে ব্রাজিলের অধিনায়ক মার্কুইনহোস।

জয় ছাড়া কিছুই ভাবছি না: মার্কুইনহোস

প্রথম বার ভারতে খেলতে এসে মার্কুইনহোস বলছেন, এই অভিজ্ঞতা তাঁদের অনুপ্রাণিত করছে। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে ব্রাজিলের অধিনায়ক বলেন, “ভারতের মতো দেশে খেলতে পারা খুব ভাল সুযোগ। জয় ছাড়া কিছুই ভাবছি না। অনেক দিন এই দলের সঙ্গে রয়েছি। তবে তরুণ ফুটবলারেরা এখানে এসে যে অভ্যর্থনা পেয়েছে, তা ভোলার মতো নয়। গোটা দল আরও ভাল খেলার ব্যাপারে অনুপ্রাণিত।”

ভারতে ব্রাজিলের জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে তাঁর কথায়। মার্কুইনহোস বলেন, “ভারতের মতো দেশে এত সমর্থকের সামনে খেলতে পারা সম্মানের। আমরা অনুপ্রাণিত। ব্রাজিলের বাইরে বোধহয় ভারতেই সবচেয়ে বেশি ব্রাজিলের সমর্থক রয়েছেন। তাই আমাদের কাছে বিষয়টা আনন্দের।”

ভারতকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে ব্রাজিল

শুধু সমর্থকদের নিয়ে নয়, প্রতিপক্ষ ভারতকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে ব্রাজিল। ভারতীয় দলের সাম্প্রতিক ম্যাচগুলি নিয়ে তাঁরা বিশ্লেষণ করেছেন বলে জানিয়েছেন মার্কুইনহোস। তাঁর কথায়, “ভারত এ বছর ছ’টার মতো ম্যাচ খেলেছে। প্রতিটা ম্যাচে জয় ছাড়াও আলাদা ইতিহাস এবং গুরুত্ব রয়েছে। ব্রাজিলও ভালো করে বিশ্লেষণ করেছে ভারতকে।”

বিজ্ঞাপন

ব্রাজিল দলের অনুশীলন।

সেই প্রসঙ্গেই গুরপ্রীতের কথা তোলেন ব্রাজিল অধিনায়ক। শনিবার ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামলে ভারতের অভিজ্ঞ গোলকিপারের ৯০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ হবে। মার্কুইনহোস বলেন, “এটা গুরপ্রীতের ৯০তম ম্যাচ হতে চলেছে। খুব ভালো ব্যাপার। মনে হয় না ভারতকে কোনো পরামর্শ দেওয়ার দরকার আছে। ওরা অত্যন্ত পেশাদার। ভারত এবং ব্রাজিলের সমর্থকদের কাছে এটা খুব ভাল মুহূর্ত।”

সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ব্যর্থতা প্রসঙ্গ

ব্রাজিলের সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ব্যর্থতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জেতেনি পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে অতীতের দিকে তাকিয়ে থাকতে নারাজ মার্কুইনহোস। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের পর আমরা বর্তমান এবং ভবিষ্যতে নজর দিচ্ছি। এ ধরনের ম্যাচ থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। আগে কী হয়েছে ভাবার দরকার নেই। এখন আমরা অনেক সংগঠিত।”

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এই ম্যাচ ভারতের কাছেও বড়ো পরীক্ষার। ম্যাচের আগে ব্রাজ়িলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি ভারতীয় কোচ খালিদ জামিলের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। দু’জনে ছবিও তোলেন। সেই প্রসঙ্গে খালিদের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, “উনি আমাকে শুধু শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।”

সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের কোচ খালিদ জামিল এবং ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি।

চাপ নিয়ে আলাদা করে ভাবছেন না ভারতীয় কোচ

তবে আনচেলোত্তির দলের বিরুদ্ধে নামার আগে ভারতীয় শিবির যে যথেষ্ট উত্তেজিত, তা স্পষ্ট খালিদের বক্তব্যে। ভারতীয় কোচ বলেন, “একটা ভালো ম্যাচ হতে চলেছে। ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে রোজ রোজ খেলব না। ফুটবলারদের কাছে দারুণ সুযোগ। ওরাও উত্তেজিত এবং কাল সমর্থকদের সামনে খেলতে মুখিয়ে রয়েছে।”

ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে খেললে চাপ থাকবেই। কিন্তু সেই চাপ নিয়ে আলাদা করে ভাবতে চান না খালিদ। তাঁর সাফ কথা, “চাপ তো থাকবেই। আপাতত স্রেফ ব্রাজিলকে নিয়েই ভাবছি। মাথায় একটাই কথা ঘুরছে, মাঠে নামো এবং নিজের সেরাটা দাও।”

ভারতীয় দলের অনুশীলন।  

আমরা ১০০ শতাংশ দেব: আনোয়ার আলি

একই বার্তা আনোয়ার আলির গলাতেও। আগের ম্যাচের ভালো পারফরম্যান্সের পর ব্রাজিলের বিরুদ্ধে আরও এক বড়ো পরীক্ষার সামনে ভারতীয় ডিফেন্ডার। আনোয়ার বলেন, “আগের ম্যাচে ভালো খেলেছি। কাল আর একটা বড়ো ম্যাচ এবং আমরা ১০০ শতাংশ দেব। যে পরিকল্পনা করেছি তা কাজে লাগাতে হবে। নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। সকলের কাছেই একটা অন্য রকম মুহূর্ত। তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে।”

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে কৌশলেও কিছু পরিবর্তন আনতে হতে পারে বলে মনে করছেন আনোয়ার। তিনি বলেন, “আমাদের শান্ত থাকতে হবে। সকলেই জানে ব্রাজিল কেমন ভাবে খেলে। পানামার থেকে ওদের কৌশল আলাদা হবে। তাই মাঠে নেমে আগে দেখতে হবে ওরা কেমন খেলছে। তার পর নিজেদের কৌশল কাজে লাগাতে হবে।”

এক দিকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল ব্রাজিল, অন্য দিকে নিজেদের ঘরের মাঠে ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলা ভারত। যুবভারতীর গ্যালারিতে ব্রাজিলের সমর্থনের ঢেউ থাকলেও মাঠে ভারতীয় ফুটবলারদের লক্ষ্য একটাই—চাপ ভুলে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলে নিজেদের সেরাটা দেওয়া।

ছবি: সঞ্জয় হাজরা



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *