পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে ঘিরে আপিলের বিপুল চাপ এবার সামনে এল একটি আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারপতির পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশের ঘটনায়। মুর্শিদাবাদের ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের আপিলের দায়িত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায় কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়ে ট্রাইব্যুনাল থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তাঁর মূল সমস্যার কথা হিসেবে উঠে এসেছে প্রতিদিন সল্টলেক থেকে জোকার শুনানি কেন্দ্রে দীর্ঘ যাতায়াত।
জোকার শুনানি কেন্দ্রটি তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরে। বিচারপতি চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, এই যাতায়াতে প্রায় দু’ঘণ্টা সময় লাগে। ফলে দিনে সর্বোচ্চ প্রায় ১০টি আপিলের শুনানি করা সম্ভব হচ্ছে। তাঁর হিসাবে, বাকি প্রায় ৫.৩ লক্ষ আপিল একই গতিতে নিষ্পত্তি করতে গেলে সময় লাগতে পারে প্রায় ১৪৫ বছর, এমনকি বছরে ৩৬৫ দিন কাজ করলেও।
– বিজ্ঞাপন –
৪২৫টি আপিলের নিষ্পত্তি
বিচারপতি চট্টোপাধ্যায়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর ট্রাইব্যুনালে এখনও পর্যন্ত ৪২৫টি আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫০ জনের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং ৭৫ জনের নাম বাদ পড়েছে। অর্থাৎ, তাঁর নিষ্পত্তি করা মামলাগুলির প্রায় ৮২.৩৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই আবেদনকারীদের নাম ভোটার তালিকায় ফিরেছে।
তিনি জানিয়েছেন, বাড়ি থেকে বা তাঁর বাসস্থানের কাছাকাছি কোনও বিকল্প জায়গা থেকে শুনানি করার সুযোগ দেওয়া হলে তিনি কাজ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। অন্যথায় ২ নভেম্বর থেকে তাঁর পদত্যাগ কার্যকর হবে বলে চিঠিতে জানিয়েছেন তিনি।
মুর্শিদাবাদে দু’টি ট্রাইব্যুনাল
SIR-পরবর্তী আপিল শুনতে মুর্শিদাবাদের জন্য দু’টি ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের আপিল দেখছেন। বাকি ১১টি কেন্দ্রের দায়িত্বে রয়েছেন অন্য এক অবসরপ্রাপ্ত হাই কোর্টের বিচারপতি। বেশিরভাগ শুনানি সংশ্লিষ্ট ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের দফতর থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টোপাধ্যায়।
মুর্শিদাবাদেই আরও এক বিচারপতি দীর্ঘ যাতায়াতের কারণে পদ ছাড়ার কথা ভাবছেন বলে সূত্রের দাবি। তবে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
বিজ্ঞাপন
গোটা রাজ্যে বকেয়া ৩৭ লক্ষের বেশি আপিল
মুর্শিদাবাদের একটি ট্রাইব্যুনালের প্রায় ৫.৩ লক্ষ মামলার পাশাপাশি গোটা রাজ্যেই SIR-সংক্রান্ত আপিলের সংখ্যা বিপুল। নির্বাচন কমিশন সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া হলফনামায় জানিয়েছিল, মোট ৩৮,৩১,৪২৯টি আপিলের মধ্যে ১,২৬,১৯৪টি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ৩৭,০৫,২৩৫টি আপিল তখনও বাকি ছিল। এর মধ্যে ২২,২১,১১৮টি আবেদন করেছিলেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিরা; বাকি আবেদনগুলি অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে করা হয়েছিল।
এর আগে ২০ মার্চ নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল। প্রতিটি ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বে রয়েছেন একজন করে অবসরপ্রাপ্ত হাই কোর্টের বিচারপতি। ট্রাইব্যুনালগুলি ১৩ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করে।
নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, SIR প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৭.১৬ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল এবং তাঁদের মধ্যে ২২ লক্ষেরও বেশি পুনরায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আপিল করেছেন। কমিশন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে।
SIR-সংক্রান্ত মামলাটি এখনও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। সম্প্রতি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে দ্রুত শুনানির আবেদনও আদালত গ্রহণ করেনি; বিষয়টি ৫ অক্টোবর শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
