গত ২৬ অগস্টের ভয়াবহ বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে নেপাল। টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে দেশের একাধিক জেলায় নেমে এসেছে বন্যা ও ভূমিধস। এখনও পর্যন্ত অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ ১৪ জন। মানাং, মিয়াগদি, বাগলুং, পর্বত ও পালপা-সহ একাধিক জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রবল বৃষ্টিতে নদীগুলির জল ফুলে ওঠায় বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে কালীগণ্ডকী নদীর জলস্তর বেড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘরবাড়ির পাশাপাশি সড়ক, সেতু এবং অন্যান্য পরিকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ নেপালের তরাই অঞ্চলের কিছু এলাকাতেও জল জমেছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
– বিজ্ঞাপন –
চোখের সামনে ধসে পড়ল পাহাড়
এর মধ্যেই নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতির একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। একটি ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, বসতবাড়ির কাছেই পাহাড়ের বিশাল অংশ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ধসে পড়ছে। আতঙ্কিত বাসিন্দাদের চিৎকারের মধ্যে জঙ্গল ও মাটির বিশাল অংশ নীচে নেমে আসতে দেখা যায়। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কোন জেলায় কত মৃত্যু?
সরকারি তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, গণ্ডকী প্রদেশের বাগলুংয়ে ১০ জন, মিয়াগদিতে ৬ জন এবং মানাংয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। লুম্বিনি প্রদেশের পালপায় ৫ জন এবং ধনুশার মিথিলা পুরসভা এলাকায় ভূমিধসে আরও এক জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ ১৪ জনের মধ্যে ১০ জন মানাংয়ের, ৩ জন মিয়াগদির এবং এক জন বাগলুংয়ের বাসিন্দা।
বিজ্ঞাপন
গণ্ডকী প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কালীগণ্ডকীর জলস্ফীতিতে পর্বত জেলার একটি বসতি থেকেও বহু বাড়ি ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
দুর্যোগে বেশ কয়েকটি সেতু ও সরকারি পরিকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও রাস্তা ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, কোথাও আবার ভূমিধসে আটকে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ। ফলে উদ্ধার ও ত্রাণকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এক মাসের ব্যবধানেই ফের বন্যা ও ভূমিধসের এমন ভয়াবহতা নেপালের পাহাড়ি ও নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালাচ্ছে প্রশাসন।
