Yuki Kurihara: বয়সটা সবে মাত্র ১১। ক্লাস সিক্সে পড়ে। এই বয়সে যখন অন্য বাচ্চারা স্কুলের হোমওয়ার্ক ব্যস্ত থাকে,তখন সে টেক্কা দিচ্ছে নিজের চেয়ে ৩ গুণ বয়সের বাঘা বাঘা পেশাদারদের! টেক্কা দেওয়া নয়,এশিয়াডের মঞ্চ থেকে দেশের জন্য ছিনিয়ে আনল সোনা।

Asian Games 2026: বয়সটা সবে মাত্র ১১। ক্লাস সিক্সে পড়ে। এই বয়সে যখন অন্য বাচ্চারা স্কুলের হোমওয়ার্ক আর বন্ধুদের সঙ্গে হুল্লোড়ে ব্যস্ত থাকে, তখন সে টেক্কা দিচ্ছে নিজের চেয়ে তিন গুণ বয়সের বাঘা বাঘা পেশাদারদের! আর শুধু টেক্কা দেওয়া নয়, এশিয়ান গেমসের মঞ্চ থেকে দেশের জন্য ছিনিয়ে আনল কাঙ্ক্ষিত সোনা। শনিবার আয়চি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ই-স্পোর্টসের মঞ্চে এক অনন্য রূপকথা লিখল জাপানের চশমা-চোখো খুদে ইউকি কুরিহারা।

Yuki Kurihara: সর্বকনিষ্ঠ সোনাজয়ী, সর্বকনিষ্ঠ প্রতিযোগী

এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রতিযোগী তো বটেই, গেমসের সর্বকালের সর্বকনিষ্ঠ সোনাজয়ী হিসেবেও ইতিহাস গড়ে ফেলেছে ষষ্ঠ শ্রেণির এই খুদে ছাত্রটি। ‘পুয়ো পুয়ো চ্যাম্পিয়নস’ নামের একটি বিশেষ পাজল গেমে সেরার মুকুট মাথায় পরেছে ইউকি। উল্লেখ্য, এই খেলাটি আন্তর্জাতিক স্তরে বহুল জনপ্রিয় ‘টেট্রিস’ গেমের মতোই, যেখানে বিশেষ পদ্ধতিতে রঙিন বল সাজিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে হয়।

দেখুন ভিডিও

Scroll to load tweet…

ইউকির কীর্তি

এশিয়ান গেমস জুড়ে নিজের থেকে বয়সে অনেকটা বড় ও অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষদের স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছে ইউকি। সেমিফাইনালে তাইল্যান্ডের ২৮ বছর বয়সি প্রতিযোগী তানারাক ওংকিটকুনকে ১০-১ স্কোরে গুঁড়িয়ে দিয়ে রুপো নিশ্চিত করেছিল সে। আর ফাইনালের মহা-লড়াইতে দক্ষিণ কোরিয়ার ২৪ বছর বয়সি কাং দোংশিনকে ১০-২ ব্যবধানে হারিয়ে সোনার পদক পকেটে পুরে ফেলে জাপানের এই বিস্ময় বালক। ফাইনালের শুরুতে ১-০ পিছিয়ে পড়লেও, ধীরস্থিরভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে আর মাথা তুলে দাঁড়াতেই দেয়নি সে।

মন জিতল খুদে তারকা

তবে শুধু খেলাতেই নয়, ম্যাচ শেষে নিজের প্রতিক্রিয়া দিয়েও দর্শকদের মন জিতেছে এই খুদে তারকা। এত বড় জয়ের পর ও মঞ্চে সোনা নেওয়ার সময়েও তার মুখে কোনো হাসির রেখা দেখা যায়নি। পরে এর কারণ জানাতে গিয়ে সে বলে, ”সত্যি বলতে, আমার বড্ড লজ্জা লাগছিল! এত মানুষের সামনে অত লজ্জা করছিল যে নিজের মুখের কোনো ভাবই ফুটিয়ে তুলতে পারিনি।” তবে লজ্জা পেলেও জয়ের আনন্দে ডগমগ ইউকি যোগ করে, ”আমি সত্যিই ভীষণ খুশি। সোনার পদকটা এত সুন্দর, এত চকচকে আর ভারী যে কী বলব!”

১০ বছর বয়সে জাতীয় দলে জায়গা

মাত্র ১০ বছর বয়সেই জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছিল ইউকি। চলতি বছর এপ্রিলে, ১১ বছর পূর্ণ হওয়ার দু’মাস আগেই সে হয়ে ওঠে নিবন্ধিত পেশাদার ই-স্পোর্টস খেলোয়াড়। কীভাবে তৈরি হয় এই খুদে জাদুকর? ইউকি জানিয়েছে, বড় ম্যাচের আগে তার শক্তির গোপন চাবিকাঠি হল ‘ইল মাছ’! এটাই নাকি তার পছন্দের ট্রেনিং ফুড। পড়াশোনা, কোচিং ক্লাস আর ই-স্পোর্টস একসঙ্গে সামলানো চ্যালেঞ্জের হলেও, এতেই আনন্দ খুঁজে পায় সে।

প্রশংসায় ভাসছে

এমনকি রুপোজয়ী দক্ষিণ কোরিয়ার কাং দোংশিনও ইউকির নিখুঁত প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং নির্ভুল চাল দেখে মন্ত্রমুগ্ধ। গত দুটি এশিয়ান গেমস থেকেই ই-স্পোর্টস মূল পদকের খেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু দেশের মাটিতে এ বারের আয়চি-নাগোয়া গেমসে ইউকির এই ঐতিহাসিক সোনা জাপানের ই-স্পোর্টস জগতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *