খাবারের প্যাকেট পেল ছোট্ট অদৃজাImage Credit: TV9 Bangla

ভুতনি: বাড়িতে অপেক্ষায় আছে মা, বাবা, ঠাকুমা, দাদু, দুই বোন, এক ভাই। এক প্যাকেট চিঁড়েতে কি এতগুলো পেট ভরে? তবু, খালি পেটে থাকার থেকে তো ভালো! তাই টিনের ডিঙি নিয়ে উত্তাল গঙ্গার উপর দিয়ে সেও পৌঁছে গিয়েছিল ত্রাণের খোঁজে। চারপাশে গিজগিজ করছে ডিঙি। চিঁড়ে-গুড়ের প্যাকেট পেতে রীতিমতো ল়ড়াই! কতদিন খাবার জোটেনি। তাই যতগুলো পারা যায় টেনে নিচ্ছিলেন সবাই। ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছিল ছোট্ট অদৃজা।

এই ডিঙি, ওই ডিঙির ধাক্কা খেতে খেতে ভাসছিল সে। চিঁড়ের প্যাকেটে দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই সব শেষ। যতক্ষণে তার কাছে সুযোগ এল, ততক্ষণে আর প্যাকেট নেই, কিছু চিঁড়ে এপাশ ওপাশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। অদৃজার মুখে তখন অন্ধকার। সবার ডিঙিতে খাবারের নীল প্যাকেট। শূন্য মুখে তাকিয়ে ছিল সে। খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হবে!

TV9 বাংলার ক্যামেরায় বারবার ধরা পড়ছিল অদৃজার সেই বিষন্ন মুখের ছবি। TV9 বাংলার প্রতিনিধি এক নাবালকের ডিঙার দিকে ক্যামেরা ঘোরাতেই চোখে পড়ে, সেখানে ৪ খানা প্যাকেট। নাবালককে প্রশ্ন করা হয়, ‘একখানা কি ওকে দেওয়া যায়? ও খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে।’ নাবালকের সঙ্গে থাকা ব্যক্তি বলেন, ‘হ্য়াঁ বলুন, কাকে দিতে হবে?’ অদৃজার ডিঙিটা দেখিয়ে দিতেই প্যাকেট নিয়ে তার হাতে তুলে দেয় ওই নাবালক।

একটা প্যাকেট। তাতেই ক্লাস ফোরের ছাত্রী ওই নাবালিকার মুখে হাসি ফোটে। নৌকা নিয়ে তরতর করে এগিয়ে যায়। যতটা তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরা সম্ভব। প্রশ্ন করতেই বলে, ‘সবাই মিলে খাব। বাড়িতে মা, বাবা, ঠাকুমা, দাদু আছে। আমরা তিন বোন, এক ভাই।’ এতজন মিলে একটা প্যাকেটে কীভাবে পেট ভরে, তা বোধহয় অদৃজারাই জানে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *