ট্রাফিক জরিমানা দেওয়ার নামে নতুন করে সাইবার প্রতারণার ফাঁদ পাতছে প্রতারকরা। হোয়াটসঅ্যাপ এবং এসএমএসের মাধ্যমে গাড়ির মালিকদের কাছে পাঠানো হচ্ছে ভুয়ো ট্রাফিক ফাইন বা ই-চালানের নোটিস। সেই মেসেজে থাকা লিঙ্কে ক্লিক করে জরিমানা মেটাতে গেলেই খোয়া যেতে পারে টাকা, এমনকি হাতছাড়া হতে পারে ফোনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও। এই প্রতারণা নিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করল কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম সেল।
কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের ফেসবুক পেজে একটি সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করা হয়েছে। সেই ভিডিয়োয় জানানো হয়েছে, সাইবার প্রতারকরা নিজেদের ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিক হিসাবে পরিচয় দিয়ে গাড়ির মালিকদের কাছে ভুয়ো মেসেজ পাঠাচ্ছে। মেসেজের সঙ্গে এমন কিছু অ্যান্ড্রয়েড প্যাকেজ বা .apk ফাইল পাঠানো হচ্ছে, যেগুলিকে দেখতে অনেকটা বকেয়া ই-চালানের নোটিসের মতো।
– বিজ্ঞাপন –
পুলিশের সতর্কবার্তা, অপরিচিত বা যাচাই না করা কোনও লিঙ্কে ক্লিক করা যাবে না। একইভাবে মোবাইলে পাঠানো অজানা কোনও অ্যাটাচমেন্ট বা .apk ফাইল ডাউনলোড করাও বিপজ্জনক। কারণ, এই ধরনের ফাইল ফোনে ইনস্টল হয়ে গেলে প্রতারকরা ডিভাইসের বিভিন্ন তথ্য এবং ব্যক্তিগত ফাইলের নাগাল পেতে পারে।
সাইবার ইউনিটের এক আধিকারিক ভিডিয়োয় জানিয়েছেন, এই ধরনের লিঙ্কের মাধ্যমে জরিমানা মেটাতে গিয়ে অনেকেই আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাঁর দাবি, .apk ফাইল ইনস্টল হয়ে গেলে প্রতারকরা ফোনের ছবি ও গ্যালারির মতো তথ্যেও প্রবেশাধিকার পেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্বিস্তরীয় নিরাপত্তা বা দুই-ধাপের প্রমাণীকরণও সবসময় সুরক্ষা দিতে পারে না বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
কী ভাবে ট্রাফিক জরিমানা মেটাবেন?
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, অনলাইনে ট্রাফিক জরিমানা মেটানোর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করতে হবে। সরকারি অনলাইন পোর্টালের ঠিকানা— sanjog.wb.gov.in
অফলাইনে জরিমানা মেটাতে চাইলে কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজারের কেন্দ্রীয় ট্রাফিক কাউন্টার অথবা শহরের নির্দিষ্ট ২৬টি ট্রাফিক গার্ড কাউন্টারের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশের পরামর্শ, কোনও মেসেজে ট্রাফিক জরিমানার কথা জানিয়ে তাড়াহুড়ো করে টাকা দিতে বলা হলে আগে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে। মেসেজে থাকা লিঙ্কের বদলে সরাসরি সরকারি পোর্টালে গিয়ে বকেয়া জরিমানা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করাই নিরাপদ।
প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত জানান
কেউ সন্দেহজনক মেসেজ পেলে অথবা ইতিমধ্যেই সাইবার প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সাইবার অপরাধ হেল্পলাইন ১৯৩০ অথবা ১৮০০-৩৪৫-০০৬৬ নম্বরে অভিযোগ জানানো যাবে।
বিশেষ করে টাকা হাতছাড়া হওয়ার পর যত দ্রুত অভিযোগ জানানো যায়, ততই প্রতারিত অর্থ দ্রুত আটকে দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই প্রতারণার ঘটনা ঘটলে দেরি না করে অবিলম্বে হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
