খবর অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড়ো ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এটিকে কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত চালানো ‘সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সোমবার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোকেও এর আওতায় আনার ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন।
এর পাল্টা জবাবে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর থেকে কোনো তেল রফতানি হতে দেবে না। এতে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
– বিজ্ঞাপন –
সোমবার বিকেল ২টায় মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে। সেখানে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করা হতে পারে।
রবিবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে বেসেন্ট বলেন, ইরানের অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ‘ভীত’ দেশগুলোরও এর পরিণতি বিবেচনা করা উচিত। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।
ইরানের কঠোর পাল্টা অবস্থান
ইরান কয়েক দিন ধরেই নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। দেশটির কর্মকর্তারা এরই মধ্যে একাধিক কঠোর বিবৃতি দিয়েছেন।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই রবিবার বলেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলতে থাকলে ইরান পারস্য উপসাগর বা হরমুজ প্রণালী—কোনো পথ দিয়েই এক ফোঁটা তেল রফতানি হতে দেবে না।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধকে যারা সমর্থন করবে বা এতে অংশ নেবে, ইরান তাদের কর্মকাণ্ডকে যুদ্ধের অংশ হিসেবে বিবেচনা করবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকিকে ওয়াশিংটনের ‘হতাশার’ প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও সামরিক পদক্ষেপ ব্যর্থ হয়েছে এবং নতুন অর্থনৈতিক চাপও সফল হবে না।
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ
উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে গেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস জন ফিন ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অন্যদিকে সরিয়ে দিয়েছে। তিনটি জাহাজ অচল করা হয়েছে এবং দুটি জাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
অন্যদিকে, ইরানের পারস্য উপসাগরীয় প্রণালী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গকারী জাহাজ ভবিষ্যতে এই জলপথ ব্যবহারে বিধিনিষেধের মুখে পড়তে পারে।
সপ্তাহান্তে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার মাত্র চারটি এবং শনিবার ১৩টি জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করেছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির মুখপাত্র হাসান কাশকাভি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি খসড়া পরিকল্পনার একটি ধারা অনুমোদন করেছে কমিটি। এতে জলপথে ইরানের দেওয়া বিভিন্ন সেবার জন্য ফি নেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে।
কূটনীতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা গত জুনে সুইৎজারল্যান্ডে বৈঠকের পর থেকে স্থগিত রয়েছে। এর মধ্যে কাতার ও পাকিস্তান-সহ কয়েকটি দেশ আবারও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের চেষ্টা করছে।
ইরান জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সোমবার তেহরান সফর করবেন। এই সফরের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করতে পারে। তবে এর ফলে তেহরান রাজনৈতিক ভাবে নতি স্বীকার করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
